শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শুক্রবার দুপুর চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের মাদক ও সন্ত্রাসমুক্তি লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি কচুয়া থেকে নকলবিরোধী কার্যক্রমের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় একই পদ্ধতিতে মাদক‑সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর মতে, কচুয়া থেকে নকলবিরোধী কার্যক্রমের সফল যাত্রা শুরু হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী ক্যাম্পেইনের সূচনা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেভাবে কচুয়া থেকে শিক্ষাঙ্গণে নকলবিরোধী কার্যক্রমের সফল যাত্রা শুরু হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সূচনা হবে কচুয়া থেকেই।”
এই বক্তব্যের পর মন্ত্রী কচুয়া উপজেলায় নকলমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার সাফল্যকে দেশের মডেল হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “নকলমুক্ত কচুয়া একসময় সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। আমরা চাই, একইভাবে কচুয়া হোক মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশের মডেল।”
কচুয়া উপজেলাকে পর্যায়ক্রমে মাদক‑মুক্ত, সন্ত্রাস‑মুক্ত এবং ইভিটিং‑মুক্ত করার পরিকল্পনা মন্ত্রীর ঘোষণার মূল অংশ। তিনি জানান, এই লক্ষ্যে প্রশাসন, আইন‑শৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে ফেলা, পরবর্তী ধাপে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন এবং শেষ ধাপে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে এবং ঘোষিত কর্মসূচিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।” এই মন্তব্য থেকে সরকারী নীতি ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর‑১ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর কচুয়াকে প্রথম সফর গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তার প্রথম সফরে তিনি কচুয়া উপজেলায় নকলবিরোধী উদ্যোগের সাফল্যকে মডেল করে মাদক‑সন্ত্রাসমুক্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. রবিউল হাসান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও আইন‑শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা। সকল উপস্থিতি মন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে কচুয়া উপজেলায় সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, কচুয়া উপজেলায় প্রথমে মাদকদ্রব্যের অবৈধ চর্চা বন্ধ করতে স্থানীয় গোষ্ঠী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করা হবে। এরপর সন্ত্রাসী সংগঠনের সম্ভাব্য ঘাঁটি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে তা দমন করা হবে। শেষ পর্যায়ে, ইভিটিং‑মুক্তি নিশ্চিত করতে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রীর মতে, কচুয়া থেকে শুরু করে সমগ্র দেশে মাদক‑সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাই বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য।



