শুক্রবার সকাল সাতটায় ফরিদপুরের থানা রোডে অবস্থিত পৌর মার্কেট ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা অংশ নেন এবং “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে সমাবেশকে সমর্থন জানায়। এই কার্যক্রমটি শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়, চকবাজার মোড়ের নিকটে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিতদের মতে তিনটি স্ট্যান্ডের মাঝের দুটিতে পতাকা টাঙানো হয়।
উত্তোলন অনুষ্ঠানে ফরিদপুর শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি কাওসার আকন্দ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমদ এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি দেবাশীষ নয়নসহ অন্যান্য কর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিতদের মতে, যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মজিবর রহমান (নিক্সন চৌধুরী) নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আসিবুর রহমান ও কাওসার নেতৃত্বে পতাকা উত্তোলন সম্পন্ন হয়।
দেবাশীষ নয়ন উল্লেখ করেন, যুবলীগের নেতৃত্বাধীন এই কার্যক্রমটি দলীয় কার্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্বে থানা রোডের এই কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বর্তমান উত্তোলনই সেই ঐতিহ্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার একটি পদক্ষেপ।
থানা রোডের এই কার্যালয়টি পূর্বে ২০২২ সালে আলীপুর মহল্লার হাসিবুল হাসান সড়কে নতুন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় উদ্বোধনের পরেও শহরের মূল দলীয় কার্যালয় হিসেবে কাজ করে আসছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারী পরিবর্তনের সময় আলীপুর মহল্লার নতুন কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তার স্থানে সরকারি উদ্যোগে “জুলাই স্মৃতি স্মারক” স্থাপন করা হয়। ফলে থানা রোডের পুরনো কার্যালয়টি আবারও দলীয় কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসে।
এই পতাকা উত্তোলনকে কিছু বিশ্লেষক ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উঁচু করা সরকারী নিষেধাজ্ঞার পরেও দলীয় উপস্থিতি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে, এই ধরনের প্রকাশ্য কার্যক্রম স্থানীয় সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে দলীয় সংগঠনের দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা দায়িত্বশীল সংস্থাগুলি এই ধরনের সমাবেশের উপর নজরদারি বজায় রেখেছে। যদিও কোনো প্রতিবন্ধকতা বা আইনি পদক্ষেপের উল্লেখ নেই, তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্যক্রমে আইনগত সীমা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আলোচনা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের এই পদক্ষেপের ফলে ফরিদপুরে দলীয় কাঠামোর পুনর্গঠন ও কার্যক্রমের পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। দলীয় নেতারা এখনো স্পষ্ট করে বলেননি যে এই কার্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হবে কিনা, তবে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে স্থানীয় স্তরে সম্ভাব্য সমাবেশ, সভা ও অন্যান্য রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হতে পারে, যা এলাকার রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন একটি সংগঠিত সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় উপস্থিতি পুনরায় নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল ও সংগঠনগত পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



