ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ শুক্রবার সকাল কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর গ্রামে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানালেন, হজযাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি হজ ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং সকল যাত্রীকে পূর্ণ সুবিধা প্রদান করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কায়কোবাদ উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো একত্রে কাজ করবে, যাতে হজযাত্রীরা নির্ধারিত সুবিধা পুরোপুরি পেতে পারে। তিনি বলেন, সরকার এই দিক থেকে কোনো পদক্ষেপে পিছিয়ে থাকবে না।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে এই বছর হজের সুযোগ-সুবিধা পূর্বের তুলনায় অধিক উন্নত হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, হজের সময় যাত্রীদের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো হবে।
কায়কোবাদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে জয়লাভের পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই তার নিজ সংসদীয় এলাকায় গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সফরটি তার নতুন দায়িত্বের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা জানার উদ্দেশ্যে করা হয়।
মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তিনি স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সম্পূর্ণ সচেতন এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধি না ঘটাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কায়কোবাদ জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বাজার পর্যবেক্ষণ করবে এবং মূল্য বাড়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, সাধারণ মানুষকে কোনো আর্থিক কষ্টে না ফেলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও কায়কোবাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সকল ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা বিধান করা সরকারী কর্তব্য এবং তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হবে।
যে কোনো ব্যক্তি উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে, এ বিষয়ে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
কায়কোবাদের এই মন্তব্যগুলো হজ মৌসুমের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারী প্রস্তুতি এবং জনসাধারণের মঙ্গলের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। হজের সুবিধা, মূল্যের স্থিতিশীলতা এবং ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্রীয় নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ruling party‑এর জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।



