শেখ তানভীর বারী হামিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ফেসবুকে পোস্টে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও শ্রমিক সংগঠনের নামে স্লিপ দিয়ে টাকা তোলাকে ‘স্পষ্ট চাঁদাবাজি’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রথা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।
হামিমের পোস্টে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের অবৈধ আর্থিক সংগ্রহের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গৃহীত হবে। তিনি অতীতে এই অপসংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, উন্নত দেশগুলোতে এমন কোনো প্রথা দেখা যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে হামিম উল্লেখ করেন, ঈদের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হবে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল হ্রাস পেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী এখন মাত্র চারটি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এছাড়া ভিআইপি মুভমেন্টের সময় রাস্তার দুপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বন্ধ করা হয়েছে, যা তিনি জনগণকে কেন্দ্র করে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হামিমের মতে, সড়কে স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে বা মহাসড়কের টোল সংগ্রহের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। টোল সংগ্রহ আইনগত ভিত্তিতে এবং নির্ধারিত রুটে সীমাবদ্ধ, যেখানে স্লিপের মাধ্যমে নগদ সংগ্রহ কোনো অনুমোদিত প্রক্রিয়া নয়। তিনি এই প্রথাকে চাঁদাবাজি ছাড়া অন্য কিছু বলে স্বীকার করেন না।
স্থানীয় কিছু কর্মকর্তার মতে, স্লিপের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ রোড মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য নগর সেবা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়। তারা যুক্তি দেন, এই তহবিলের স্বচ্ছতা ও ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ তদারকি প্রয়োজন, তবে সম্পূর্ণ বন্ধের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
হামিমের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতিমালা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচক। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ভিত্তি করে তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সকল রাজনৈতিক নেতাকে এই দিকনির্দেশে কাজ করতে আহ্বান জানান।
প্রতিপক্ষের যুক্তি এবং হামিমের দাবি উভয়ই দেশের নগর ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন উত্থাপন করে। স্লিপের মাধ্যমে তোলা অর্থের ব্যবহার, তদারকি এবং আইনগত কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখন রাজনৈতিক এজেন্ডায় উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে সরকার যদি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করে, তবে এই প্রথা শেষ হতে পারে এবং নগর সেবার জন্য স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে স্লিপের মাধ্যমে তোলা অর্থের অবৈধ ব্যবহার কমে যাবে এবং নাগরিকদের আস্থা বাড়বে। অন্যদিকে, যদি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দেয়, তবে এই প্রথা অব্যাহত থাকতে পারে এবং জনমতকে বিরক্ত করতে পারে।
হামিমের দাবি এবং সরকারী নীতির মধ্যে সমন্বয় ঘটলে, দেশের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং চাঁদাবাজি-সদৃশ প্রথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এদিকে, নাগরিকদেরও এই বিষয়ের প্রতি সচেতনতা বাড়িয়ে, অবৈধ আর্থিক সংগ্রহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করা প্রত্যাশিত।



