শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সামনে দেশের সব বিদ্যালয় ও কলেজকে মাদক, সন্ত্রাস এবং ইভটিজিংমুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নকলবিরোধী কার্যক্রমের সফলতা কচুয়া থেকে শুরু হওয়ায় একই পদ্ধতি মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের জন্যও গ্রহণ করা হবে।
মিলন বলেন, শিক্ষার্থীর নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তোলার জন্য শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের মাদক, সন্ত্রাসবাদ বা ইভটিজিংয়ের স্থান থাকতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের অনুপ্রবেশ শিক্ষার গুণগত মানকে ক্ষুণ্ন করে এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজন।
এই ঘোষণার সময় কচুয়া জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট রাবিউল হাসান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকল কর্মকর্তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর মন্ত্রীর বক্তব্য শেয়ার করা হয়।
মন্ত্রীর মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারকে দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার পথে অগ্রসর হতে দেখা যাবে, এমন ধারণা প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি।
প্রয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় শিক্ষা বোর্ড এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করবে। শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য মাদক প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ আগামী মাসের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিয়মিতভাবে মাদক, সন্ত্রাসবাদ বা ইভটিজিং সংক্রান্ত কোনো ঘটনার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অমেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা স্থগিত বা সাময়িক বন্ধের মতো শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রীর মতে, এই উদ্যোগটি বিদ্যমান ছাত্র কল্যাণ প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করে চালু হবে, যাতে পরামর্শদাতা সেবা এবং অতিরিক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবকদের বিকল্প প্রদান করা যায়। এভাবে মাদকদ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে আনা হবে।
কমিউনিটি অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে, অভিভাবক, স্থানীয় এনজিও এবং ধর্মীয় নেতাদের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও পর্যবেক্ষণ কমিটিতে যুক্ত করা হবে। এভাবে স্কুলের বাইরেও মাদকমুক্ত পরিবেশের বার্তা পৌঁছাবে।
কচুয়া নকলবিরোধী ক্যাম্পেইনের সাফল্যকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করে, বাংলাদেশ সরকার এখন মাদকবিরোধী নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। মন্ত্রীর আশ্বাসে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আদেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম শুরু হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।



