মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, তিনি এলিয়েন ও অজানা উড়ন্ত বস্তু (UFO) সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের ব্যাপক আগ্রহের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএস পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি এই বিষয়কে “অত্যন্ত আগ্রহোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন।
একই দিনে, ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ওপর গোপন তথ্য অবৈধভাবে প্রকাশের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ওবামা গোপন তথ্য থেকে এই বিষয়গুলো জানিয়েছেন এবং তা করা উচিত নয়। এই মন্তব্য তিনি জর্জিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা আগে, ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সঙ্গে একটি পডকাস্টে ওবামাকে এলিয়েনের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। ওবামা উত্তর দেন, তিনি এলিয়েনের অস্তিত্ব স্বীকার করেন কিন্তু নিজে কখনো দেখেননি এবং তারা এয়ারিয়া ৫১-এ রাখা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র না থাকলে এমন কোনো ভূগর্ভস্থ সুবিধা নেই।
এয়ারিয়া ৫১ নিয়ে বহু বছর ধরে গুজব ও তত্ত্ব প্রচলিত, তবে ২০১৩ সালে প্রকাশিত সিআইএর আর্কাইভে দেখা যায়, এই ঘাঁটি মূলত গোপনীয় গুপ্তচরবিমানের পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ওবামার পডকাস্টে কোনো গোপন তথ্য ফাঁসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, এবং তার অফিসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্যের উত্তর দেওয়া হয়নি।
রবিবার ওবামা ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পৃথিবীর বাইরের কোনো প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ দেখেননি, তবে মহাবিশ্বের বিশালতা বিবেচনা করে তিনি এলিয়েনের সম্ভাবনা স্বীকার করেন।
ট্রাম্পের নথি প্রকাশের নির্দেশনা, জনসাধারণের স্বচ্ছতা চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, মার্কিন সরকারকে আরও বেশি গোপনীয় তথ্য উন্মোচনের দিকে ধাক্কা দিতে পারে। এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে ট্রাম্পের চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, নথি প্রকাশের ফলে কংগ্রেসের তদারকি বাড়বে, নতুন প্রকাশন নীতি গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং আসন্ন নির্বাচনে এই বিষয়টি ভোটারদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
ইউএস পেন্টাগনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে; এটি নথি সংগ্রহ, পর্যালোচনা ও প্রকাশের প্রক্রিয়া সমন্বয় করবে। পেন্টাগনের এই কাজের ফলাফল ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, নির্দেশনা শীঘ্রই জারি করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আইনগত সীমার মধ্যে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করবে। এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপগুলোতে কংগ্রেসের অনুমোদন, সম্ভাব্য বিচারিক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।



