32 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশন এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি

নির্বাচন কমিশন এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এনআইডি সংশোধনের জন্য নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করেছে, যার মাধ্যমে জন্মতারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের আবেদনগুলো এখন সরাসরি এনআইডি উইংের মহাপরিচালকের (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে। এই নির্দেশনা ২৪ ডিসেম্বর ২০২২-এ প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের পর কার্যকর করা হয়েছে এবং আগামী নির্বাচনী চক্রের আগে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

পূর্বে একই ধরনের আবেদনগুলো মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ক, খ, গ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী সমাধান করতেন। এই পদ্ধতি আবেদনকারীর জন্য প্রক্রিয়ার সময় বাড়িয়ে দিত এবং দায়িত্বের বিভাজন স্পষ্ট না থাকায় দেরি ঘটতো।

নতুন এসওপি অনুযায়ী, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের পরিবর্তনের আবেদনকে “ঘ” ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই ক্যাটাগরি শুধুমাত্র এনআইডি উইংের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই করে ডিজি-কে উপস্থাপন করা হবে, ফলে মধ্যবর্তী স্তরের অনুমোদন বাদ যাবে।

এই কঠোর নির্দেশনা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষেত্র পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একক এখতিয়ার এখন সীমিত হবে এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীয় আবেদন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীভূত হবে।

ফিল্ড অফিসারদের ক্ষমতা হ্রাসের ফলে আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজের পরিধি সংকুচিত হবে। তারা এখন কেবল আবেদন সংগ্রহ এবং প্রাথমিক নথিপত্র যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবে, আর চূড়ান্ত অনুমোদন ও নিষ্পত্তি ডিজি-র হাতে থাকবে। এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

২৪ ডিসেম্বরের পূর্বে জমা দেওয়া সব আবেদনকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে “ঘ” ক্যাটাগরিতে আপগ্রেড করা হবে। এর জন্য এনআইডি উইংের অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তাদেরকে সংশ্লিষ্ট নথি পুনরায় যাচাই করে ডিজি-কে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে কোনো আবেদন বাদ না যায়।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর, অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তারা সরাসরি মহাপরিচালকের কাছে আবেদনটি পাঠাবেন। ডিজি-র অনুমোদনের পর সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিককে নতুন তথ্যসহ এনআইডি প্রদান করা হবে। এই প্রক্রিয়া সময়সীমা কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবে।

ইসি নতুন পদ্ধতির বাস্তবায়নের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। প্রথমে, পূর্বে ক-১ থেকে গ ক্যাটাগরিতে থাকা আবেদনগুলোর পূর্ণ তালিকা তৈরি করে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে, প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব আবেদনকে “ঘ” ক্যাটাগরিতে রূপান্তর করবেন। এই রূপান্তর নিশ্চিত করবে যে সব আবেদন একই প্রক্রিয়ার অধীনে থাকবে এবং কোনো বিভাজন না থাকে।

তৃতীয় ধাপটি বিশেষভাবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট-২০২৬-এর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত। এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম বর্তমানে সীমিত থাকায় বাকি থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলোকে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনের সময় নাগরিকদের পরিচয় সংক্রান্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হবে। এই কেন্দ্রীয়করণ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক দায়িত্বকে একত্রিত করে ত্রুটি হ্রাস করবে এবং নির্বাচনী সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করবে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই সংস্কার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াবে এবং নাগরিকের বিশ্বাস জোরদার করবে। তবে কিছু আঞ্চলিক কর্মকর্তার মধ্যে পরিবর্তনের প্রতি আপত্তি দেখা দিয়েছে, যেহেতু তাদের পূর্বের ক্ষমতা হ্রাস পাবে। শেষ পর্যন্ত, নতুন পদ্ধতি নির্বাচনের পূর্বে পরিচয় সংশোধনের গতি বাড়িয়ে ভোটার তালিকায় সঠিক তথ্য নিশ্চিত করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments