নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তেলবাহী লরি এক দোকানে ধাক্কা খেয়ে ব্যবসায়ী একজনের মৃত্যু এবং তার দুই পুত্রের গুরুতর আঘাত ঘটায়। ঘটনাস্থল ছিল সোনাপুর‑কবিরহাট সড়কের সোন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকা, যেখানে স্থানীয় পুলিশ অফিসার নিজাম উদ্দিন ভূঞা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
সকাল প্রায় ১০টায় সোনাপুর থেকে যমুনা ওয়েল কোম্পানির তেলবাহী লরি কবিরহাটের দিকে যাত্রা করছিল। রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি ট্রান্সমিটার এলাকার পার্শ্ববর্তী একটি ছোট দোকানের সামনে থেমে যায় এবং দিক পরিবর্তন না করে সরাসরি দোকানের দরজার দিকে ধাবিত হয়।
দোকানের ভিতরে তখন এক ব্যবসায়ী, মো. শফিক (বয়স ৬০), মোটরসাইকেলে গিয়ে কাজ করছিলেন। লরির আঘাতে শফিক সরাসরি ধাক্কা খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শফিকের দুই সন্তান, শাকিল (২১) এবং মো. একা (১৯), একই সময়ে লরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং দুজনেই গম্ভীর আঘাত পেয়ে রক্তপাতের শিকার হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শফিকের পিতার নাম মমিনুল হক, যিনি পূর্বে মারা গেছেন; শফিক ছিলেন তার একমাত্র সন্তান। শফিকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পুত্রকে স্থানীয় মানুষ দ্রুতই উদ্ধার করে নিকটস্থ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিভাগে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুজনেরই আঘাতের মাত্রা গুরুতর, এবং তাদের অবস্থা এখনও সংকটজনক।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লরির চালককে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঞা জানান, চালককে গৃহবন্দী করা হয়েছে এবং লরির বাকি অংশ, মৃতদেহসহ, উদ্ধার করা হয়েছে। লরির মালিকানার তথ্য ও তেলবাহী সংস্থার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্ত চালু রয়েছে।
অধিক তদন্তে লরির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, চালকের লাইসেন্স ও তেলবাহী কোম্পানির নিরাপত্তা প্রোটোকল যাচাই করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, লরির গতি সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা, ব্রেকের ত্রুটি বা রাস্তায় কোনো বাধা থাকলে তা তদন্তের আওতায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও গवाहীর বিবৃতি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শফিকের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের মুখে শোকের ছায়া ছড়িয়ে ছিল। পরিবার জানিয়েছে, শফিকের মৃত্যু ও দুই পুত্রের আঘাতের ফলে তারা মানসিক ও আর্থিক দু’ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তারা দ্রুত চিকিৎসা সেবা ও আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছেন।
এই ধরনের তেলবাহী লরি দুর্ঘটনা নোয়াখালীর পূর্বাঞ্চলে বিরল হলেও, রাস্তায় ভারী গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন বিভাগকে রাস্তায় ভারী গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি সিগন্যালের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলার পাশাপাশি, তেলবাহী সংস্থাগুলোর জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রাইভার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশন ও হাসপাতাল থেকে জানানো হবে।



