ভেনেজুয়েলা সরকারের জাতীয় পরিষদ বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমে একটি দীর্ঘপ্রতীক্ষিত ক্ষমা আইন অনুমোদন করেছে, যা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দরজা খুলে দেবে। আইনটি ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে গৃহীত হয় এবং দেশের রাজধানী কারাকাসে স্বাক্ষরিত হয়।
এই বিলটি একমত ভোটে পাশ হওয়ায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা তৈরি হয়েছে। ক্ষমা আইনটি ১৯৯৯ সালের পূর্বে সংঘটিত সকল অপরাধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, ফলে অতীতের বহু রাজনৈতিক মামলা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে আইনটি নির্দিষ্ট শর্তে কিছু অপরাধকে বাদ দেয়। বিদেশি রাষ্ট্র বা সংস্থার সহায়তায় ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত ব্যক্তিদের কোনো রকম ক্ষমা প্রদান করা হবে না। এই ধারা আইনটির ন্যায়বিচারিক সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে।
বহু বিশিষ্ট বিরোধী নেতা এই ক্ষমা আইনের আওতায় আসতে পারেন, যার মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। মাচাদোর মতো ব্যক্তিদের মুক্তি হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা যায়।
গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের পর interim প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণের পর এই আইনটি দ্রুত গৃহীত হয়। রদ্রিগেজ মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে স্বাক্ষর করার সময় উল্লেখ করেন, মানুষকে যেমন ক্ষমা চাইতে শিখতে হয়, তেমনি গ্রহণ করতেও শিখতে হয়। তার এই মন্তব্য আইনটির নৈতিক ভিত্তি তুলে ধরেছে।
আইনের রেট্রোঅ্যাকটিভ প্রয়োগের মধ্যে হুগো চাভেজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা, ২০০২ সালের তেল ধর্মঘট এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পর ঘটিত দাঙ্গা অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনা পূর্বে রাজনৈতিক দমনমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, এখন সেগুলোর পুনর্মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
বন্দি পরিবারের মধ্যে এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে নতুন আশা জাগ্রত হয়েছে। বহু পরিবার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর এখন তাদের প্রিয়জনকে মুক্তি পেতে দেখার সম্ভাবনা পেয়েছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের এই আইনকে নিজের লোকদের জন্য ব্যবহার করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তারা সতর্ক করছেন যে, ক্ষমা আইনটি কেবল রাজনৈতিক বন্দিদের নয়, সরকার সমর্থকদের জন্যও প্রয়োগ করা হতে পারে, যা প্রকৃত ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
জেনেভা থেকে আসা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই আইনের পরিধি সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষমা থেকে বাদ থাকে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।
আইনটির বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ধাপগুলো দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি সরকারবিরোধী নেতাদের মুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের তীব্রতা কমাতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে সহায়তা করবে। তবে আইনটির ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা পুনরায় বাড়তে পারে।



