32 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাপ্রিমিয়ার ব্যাংকে ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রদান, বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রদান, বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইভেট সেক্টরের প্রিমিয়ার ব্যাংকে মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকার জরুরি ঋণ প্রদান করেছে। এই পদক্ষেপটি ব্যাংকের তরলতা সংকট মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে এবং দুই দিনের মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

ঋণের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা নগদ আকারে সরবরাহ করা হয়েছে, আর বাকি চার হাজার কোটি টাকা বন্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। নগদ ও বন্ড উভয়ই একই শর্তে ব্যাংকের তহবিল ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হবে।

ঋণটি বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশের ধারা ১৬(৪)(ডি) ও ১৭(১)(বি) অনুসারে, নব্বই দিনের মেয়াদে সাড়ে এগারো শতাংশ সুদে প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকিং পরিভাষায় এটি ‘ওভারনাইট‑ওডি’ সুবিধা নামে পরিচিত।

প্রিমিয়ার ব্যাংক সমমূল্যের ডিমান্ড প্রমিসরি নোট (ডিপিএন) জমা দিয়ে ঋণটি সুরক্ষিত করেছে। শর্ত অনুসারে, যদি ব্যাংক দেউলিয়া হয়, তবে তার সম্পদ বিক্রি করে প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

এধরনের তহবিল সহায়তা পূর্বে শারিয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংককে প্রদান করা হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে একই শর্তে ঋণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়েছিল।

সঙ্কটের মূল কারণ হিসেবে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংকের বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। বোর্ডের পুনর্গঠনটি সরকারের পরিবর্তনের পর দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ব্যাংকের শাসন কাঠামোকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়।

প্রিমিয়ার ব্যাংক ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত এইচ বি এম একবাল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একবালের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে বোর্ডে প্রভাব বজায় রাখে, যা শাসনগত স্বচ্ছতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।

নরায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি শাখা থেকে জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের ফলে ব্যাংক অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়ে। এই আর্থিক দুর্নীতি ব্যাংকের সুনাম ও তহবিলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

সম্প্রতি বড় কিছু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের আমানত হঠাৎ তুলে নেওয়ায় ব্যাংকের তরলতা অবনতিতে তীব্রতা দেখা দেয়। এই অপ্রত্যাশিত নগদ প্রবাহ ব্যাংকের নগদ রিজার্ভকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে দেয়, ফলে তাত্ক্ষণিক তহবিলের প্রয়োজন দেখা দেয়।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান উল্লেখ করেন, এই ঋণ গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, পূর্বের তুলনায় এখন ব্যাংকের কার্যক্রম স্থিতিশীল এবং কোনো অনিয়মের ঝুঁকি কম।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন তহবিলের প্রবাহে ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতা উভয়েরই স্বার্থ রক্ষিত হবে। তদুপরি, অতিরিক্ত নগদ ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেনের ঘাটতি পূরণ হবে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই তহবিল সহায়তা প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং গ্রাহকদের জমা প্রত্যাহার বন্ধ করতে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও শাসন কাঠামোর উন্নতি না হলে পুনরায় তরলতা সংকটের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments