শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া গ্রামাঞ্চলে রৌহাদহ এলাকায় একটি ট্র্যাফিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সলঙ্গা‑তাড়াশ সড়কের কাছাকাছি দুইটি শিশু দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছিল, তখন পেছন থেকে আসা মাছের নসিমন তাদের উপর আঘাত করে। আঘাতের ফলে ছয় বছর বয়সী তাবাসসুম উল্লাপাড়ার চৈত্রহাটি গ্রাম, তফিস উদ্দিনের মেয়ে প্রাণ হারায়, আর অন্য একটি শিশুর শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়।
মৃত্যুপ্রাপ্ত তাবাসসুমের পরিবারকে পুলিশ লাশ হস্তান্তর করার পর শোক প্রকাশ করে। তার লাশ উদ্ধার করে রৌহাদহ এলাকার পুলিশ স্টেশনে পৌঁছে, পরে আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতাল এবং পরে বগুড়ার একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
স্লঙ্গা থানার এসআই মাহমুদ কবির জানান, নসিমনটি মাছের বোঝা নিয়ে তাড়াশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে নসিমনের চালক গাড়ি চালিয়ে রাস্তায় প্রবেশ করে, ফলে দুই শিশুর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। নসিমনটি রাস্তায় গিয়ে থেমে যায়, চালক গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নসিমনের মাছগুলো তুলে নিয়ে গিয়ে ক্ষেতে সরিয়ে নেয়।
পুলিশের মতে, নসিমনের চালককে সনাক্ত করার জন্য স্থানীয় সাক্ষীদের বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটার পর চালককে তাড়া করার কোনো প্রচেষ্টা না করা হয় বলে, পুলিশ এখনো তার অবস্থান জানে না। তবে নসিমনের মালিকানা ও চালকের পরিচয় জানার জন্য রেকর্ড চেক করা হচ্ছে।
আইনি দিক থেকে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। এসআই মাহমুদ কবির উল্লেখ করেন, “দুর্ঘটনার পর নসিমনের চালক রাস্তায় থেকে দূরে সরে গিয়ে, ক্ষেতে গিয়ে গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এখন আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” পুলিশ নসিমনের মালিককে গ্রেফতার করে, চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় রৌহাদহ এলাকায় গাড়ি ও ট্রাকের চলাচল বেশ ব্যস্ত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাস্তায় গতি সীমা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না, ফলে এ ধরনের ট্র্যাফিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা, যা রাস্তায় চলমান যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার পর রাস্তায় গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং পাদচারী সেতু ও ক্রসিং স্থাপন করার কথা বিবেচনা করছে। এছাড়া, মাছের নসিমনের মতো বড় গাড়ি চালকদের জন্য বিশেষ ট্র্যাফিক নিয়মাবলী প্রণয়নের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত চলমান থাকায়, পুলিশ ও স্থানীয় আদালত ভবিষ্যতে নসিমনের চালক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে। তাবাসসুমের পরিবার ও স্থানীয় জনগণ এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছে, একই সঙ্গে রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।



