পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতের ফেসবুক পোস্টে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা‑সোনাগাজী) নির্বাচনী এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং অন্যান্য অনিয়ম দূর করার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে একটি হটলাইন নম্বর প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফেনী-৩-কে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে তিনি ও তার দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে এবং নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। এই নীতি অনুসারে কোনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ দ্রুত তদন্তের আওতায় আনবে।
হটলাইন নম্বরটি ০১৭৩০০০৪৮৪৪, যা অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ইউনিটে সংযুক্ত করবে। মন্ত্রী জানান, এই নম্বরের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য গোপনীয়তা রক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু পোস্টে আরও জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়তে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি সকলকে সতর্ক থাকতে এবং কোনো অনিয়ম লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে আহ্বান জানান।
ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা মন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখিয়ে বলেন, হটলাইন চালু হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে তারা আশাবাদী। কিছু স্থানীয় নেতা উল্লেখ করেন, অভিযোগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
মন্ত্রীর এই উদ্যোগের পেছনে নির্বাচনী সময়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হুমকি কমাতে প্রো-অ্যাকটিভ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হটলাইনটি কেবল অভিযোগ গ্রহণের মাধ্যম নয়, বরং সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হবে।
ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশিত এই ঘোষণায় মন্ত্রী অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, হটলাইন ব্যবহারে কোনো শাস্তি বা ভয় না পেয়ে স্বচ্ছভাবে তথ্য শেয়ার করা যাবে। তিনি নিশ্চিত করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় প্রশাসনও মন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে বলে, হটলাইন চালু হওয়ার ফলে পুলিশ ও স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার কাজ সহজ হবে এবং তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে। এদিকে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের সহায়তা প্রদান করবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু পোস্টে উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণে সকল স্তরের সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি এই সমন্বয়কে শক্তিশালী করে নিরাপদ পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান।
এই হটলাইন চালু হওয়ার ফলে ফেনী-৩-এ ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি কার্যকরী যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। তারা বলেন, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।
মন্ত্রীর এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায়ও অনুরূপ হটলাইন চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই মডেল সফল হয় তবে তা দেশের অন্যান্য অংশে পুনরায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
সর্বশেষে, আবদুল আউয়াল মিন্টু নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেন, হটলাইনটি শুধুমাত্র অভিযোগের জন্য নয়, বরং সচেতনতা বাড়িয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমন্বিত লড়াইয়ের অংশ। তিনি সকলকে এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সহযোগিতা করতে অনুরোধ করেন।



