দৈনিক প্রথম আলোর ঢাকা সদর দফতরে ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে একদল আক্রমণকারী প্রবেশ করে শাটার ও কাচের দরজা ভেঙে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। অগ্নিকাণ্ডে ওসমান হাদির মৃত্যুর পাশাপাশি সম্পত্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ‑জ্বালানি ও সড়ক‑সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান, যিনি পরে ফেসবুকে পোস্ট করে সরকারের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন।
ফাওজুল কবীরের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আক্রমণ রোধে সরকারের কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ নেই; দায় সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর। তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে সংবাদপত্রকে রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, এ ব্যর্থতার দায় আমাদের।” পোস্টটি শুক্রবার প্রকাশিত হয়, যা ঘটনার পরপরই করা হয়।
আক্রমণের পরপরই ফাওজুল কবীর জানান, তিনি বুধবার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর দগ্ধ ভবনে শিল্প প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ দুঃখজনক, তবে এ ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়; যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলেও একই রকম আক্রমণ ঘটেছে।”
আক্রমণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা হিসেবে তিনি ‘অমার্জনীয়’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এরপর তিনি পুনরাবৃত্তি রোধে তাগিদ দেন, “এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটাতে আমাদের সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কেবল উগ্রবাদীদের দোষারোপে সমস্যার সমাধান হবে না।”
বিভাজনমূলক মনোভাব থেকে বেরিয়ে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ক্ষতিকর ধারণা হল ‘আমি ঠিক, অন্যরা আমার প্রতিপক্ষ’। এই ধরণের দ্বিমুখী চিন্তা থেকে সরে এসে সকল বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ শুরু করা দরকার।
ফাওজুল কবীর এছাড়াও দেশের ইসলামপন্থী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতার অভিযোগ এবং প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে ‘সম্মতি উৎপাদন’ের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন, যা সাংবাদিক শফিক রেহমানের মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি পুনরায় প্রথম আলোর ওপর আক্রমণ নিন্দা করে, “এ ধরনের অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করছি” বলে জোর দেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে ফাওজুল কবীর বিদ্যুৎ‑জ্বালানি ও সড়ক‑সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রয়োগের দুর্বলতা এই আক্রমণের মূল কারণ।
প্রথম আলোর আক্রমণ ও ওসমান হাদির মৃত্যুর পর, দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তীব্রভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে। ফাওজুল কবীরের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই ধরনের ঘটনা মিডিয়া স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতে, সরকারকে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে এবং আক্রমণকারী গোষ্ঠীর সনাক্তকরণ ও দায়িত্ব আরোপে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ফাওজুল কবীরের আহ্বান অনুযায়ী, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা এবং সমাজের বিভাজনমূলক মনোভাব দূর করা জরুরি।
এই ঘটনার পর, প্রথম আলোর সম্পাদকীয় দল পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও মিডিয়া নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ফাওজুল কবীরের স্বীকারোক্তি ও আহ্বান দেশের নিরাপত্তা নীতি, মিডিয়া সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক সংলাপের নতুন দিক নির্ধারণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই আলোচনার ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে তা নজরে থাকবে।



