ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলি শুক্রবার দুপুর ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শ্রীঘ্রই রাত ১২:০১ টায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এই সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রথম প্রহরে সম্মান জানাবেন, এরপর রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও বিদেশি কূটনীতিকরাও অংশগ্রহণ করবেন। সাধারণ জনগণের জন্য শহীদ মিনার রাত ১২:৪০ টায় উন্মুক্ত করা হবে, তবে তা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে।
জনসাধারণকে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে শহীদ মিনারে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পলাশীর মোড় ও জগন্নাথ হল ক্রসিং দিয়ে গিয়ে সরাসরি মিনারে পৌঁছানো যাবে, অন্য কোনো পথ ব্যবহার করা নিষেধ। সমাপনী অনুষ্ঠানের পর রমনা ক্রসিং দিয়ে দোয়েল চত্বর বা চানখারপুলের দিকে বেরিয়ে আসতে হবে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই রুটগুলো মেনে চলা আবশ্যক।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে কমিশনার জানান, যদিও কোনো হুমকি চিহ্নিত হয়নি, তবু স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিটগুলো সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। স্বয়ংক্রিয় SWAT দল, কুকুর স্কোয়াড, বোমা নিষ্কাশন দল এবং ক্রাইম সিন ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং টিমও সক্রিয় থাকবে। এছাড়া, শহীদ মিনারে ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক সামগ্রী আনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ট্রাফিক সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে ডাইভারশন স্থাপন করবেন বলে জানান। উল্লেখিত ডাইভারশন পয়েন্টগুলো হল শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, চানখারপুল ক্রসিং এবং অন্যান্য দুইটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা নিরাপদ প্রবেশ-প্রস্থান নিশ্চিত করবে।
কমিশনারের মতে, নিরাপত্তা পরিকল্পনা শুধুমাত্র শারীরিক নিরাপত্তা নয়, বরং তথ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। সাইবার পর্যবেক্ষণ টিম অনলাইন চ্যানেলগুলো পর্যবেক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য সাইবার হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। এ সব ব্যবস্থা একত্রে নিশ্চিত করবে, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
অধিকন্তু, পুলিশ জনসাধারণকে অনুরোধ করেন, নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো পথ ব্যবহার না করে, ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করতে। এ ধরনের সহযোগিতা না করলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক থেকে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। জনসাধারণের সহযোগিতা ও নির্ধারিত রুট অনুসরণই সফল অনুষ্ঠানের মূল চাবিকাঠি হবে।



