শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তা পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, শনিবারের বিশাল সমাবেশে কোনো নিরাপত্তা উদ্বেগ নেই।
কমিশনারের মতে, ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান জানাতে এই দুই দিনেই শহীদ মিনারে বিশাল জনসমাগম হবে, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু স্তরের ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
পর্যবেক্ষণের পর তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ মিনারের চারপাশে প্রায় পনেরো হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হবে, যা পূর্বের কোনো অনুষ্ঠানের চেয়ে বেশি।
এছাড়াও, অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক দলকে একত্রে কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে সমাবেশের সময় শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
কমিশনার জোর দিয়ে বলেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সকলের দায়িত্ব।
এক সপ্তাহ আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটাররা সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটদান করেছেন এবং কোনো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা দেয়নি; একইভাবে শিহরদিবসের অনুষ্ঠানেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
বিশেষ ইউনিট হিসেবে সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোমা নিষ্কাশন দল এবং ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং টিমকে শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে অনলাইন হুমকি এবং তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনা কমে।
সাংবদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধুমাত্র শহীদ মিনারেই নয়, পুরো ঢাকা শহরের জন্য বিস্তৃত, এবং শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রনায়করা শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকবেন, এরপর বিদেশি কূটনীতিকরাও সমাবেশে অংশ নেবেন।
ভিআইপি ও ভিভিআইপি অনুষ্ঠান শেষে শহীদ মিনার সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যাতে সবাই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে।
গমনাগমনের জন্য কমিশনার বিশেষ নির্দেশ দেন যে, পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং থেকে শহীদ মিনারের পথে চলা যাবে, অন্য কোনো রুট থেকে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
সর্বশেষে তিনি নিশ্চিত করেন, নিরাপত্তা কর্মীরা রাতভর সতর্ক থাকবে এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।



