বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওডিআই শুটিংয়ে তৌহিদ হ্রিদয় এখনো একটি স্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন না। ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডেবিউ করার পর থেকে তিনি বিভিন্ন ব্যাটিং ক্রমে খেলেছেন এবং নির্বাচকদের দৃষ্টিতে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
হ্রিদয় তার প্রথম ওডিআই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখেন। ডেবিউয়ের পর থেকে তিনি মোট ৪৪টি ওডিআইতে অংশগ্রহণ করেছেন, যেখানে বিভিন্ন অবস্থানে তার পারফরম্যান্সের দিক থেকে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রথমে তিনি নম্বর ৩, ৪ এবং ৫ পজিশনে স্বল্প সময়ের জন্য খেলেছেন। তিনটি ম্যাচে নম্বর ৩-এ বসে তিনি ৪০ রান সংগ্রহ করেন, যার গড় ১৩.৩৩। যদিও এই গড় তুলনামূলকভাবে কম, তবে নির্বাচকরা তার সম্ভাবনা নিয়ে এখনও আশাবাদী।
নম্বর ৪-এ হ্রিদয় ১৩টি ওডিআইতে ব্যাট করেছেন এবং মোট ৪৭৬ রান তৈরি করেছেন। এই অবস্থানে তার গড় ৩৯.৬৬, যা তার স্থিতিশীলতা এবং মাঝারি শটের দক্ষতা নির্দেশ করে। এই পরিসংখ্যান তাকে দলের মাঝারি ক্রমে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে।
অন্যদিকে, হ্রিদয় ১৮টি ম্যাচে নম্বর ৫-এ খেলেছেন। যদিও মূল প্রতিবেদনে এই অবস্থানে তার রানসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, তবে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখায় যে তিনি দলের নিম্ন ক্রমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্তো হ্রিদয়ের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “নম্বর ৪ পজিশনে হ্রিদয়ের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা প্রকাশ পাবে এবং দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে নির্বাচকরা হ্রিদয়ের জন্য নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণে আগ্রহী।
মুশফিকুর রহিমের অবসরের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের মাঝারি ক্রমে একটি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। রহিমের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণে হ্রিদয়ের সম্ভাবনা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তাই তার স্থায়ী নম্বর ৪ পজিশন নিশ্চিত করা দলকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করবে।
তবে হ্রিদয়ের জন্য চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নম্বর ৩-এ তার গড় তুলনামূলকভাবে কম, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে শটের নির্বাচন ও রেটের উন্নতি করতে হবে। এছাড়া দলের অন্যান্য মাঝারি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র, যা তার স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্বাচকরা হ্রিদয়ের শারীরিক ফিটনেস, মাঠে তার আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তার অভিযোজন ক্ষমতা মূল্যায়ন করছেন। যদি তিনি নম্বর ৪-এ ধারাবাহিকভাবে ৪০ রানের বেশি স্কোর করতে পারেন, তবে তার অবস্থান আরও মজবুত হবে।
হ্রিদয়ের সম্ভাব্য স্থায়ী ভূমিকা দলের ব্যাটিং গভীরতাকে বাড়াবে এবং নতুন তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি রোল মডেল তৈরি করবে। বিশেষ করে ওডিআই ফরম্যাটে মাঝারি ক্রমের স্থিতিশীলতা দলের জয়লাভের সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ওডিআই শিডিউলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে হ্রিদয়ের পারফরম্যান্স সরাসরি তার নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলবে। নির্বাচকরা এই সিরিজগুলোকে তার ক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সারসংক্ষেপে, তৌহিদ হ্রিদয় এখনো নির্দিষ্ট নম্বর ৪ পজিশন নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে তার বর্তমান পরিসংখ্যান ও নির্বাচকদের ইতিবাচক মন্তব্য তাকে এই দিকের প্রার্থী হিসেবে উজ্জ্বল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে তার ধারাবাহিকতা এবং শটের গুণমানই নির্ধারণ করবে তিনি দলকে দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে সেবা দিতে পারবেন।



