জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শপথ নেওয়া জামায়াতে ইসলামীয়ের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আল ফালাহ মিলনায়তনে দুই দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া, স্থায়ী কমিটির কাজ এবং বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা প্রদান করা।
জাতীয় নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে আসছেন, ফলে তাদের পার্লামেন্টের প্রক্রিয়া ও শিষ্টাচার সম্পর্কে জ্ঞান ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে দলটি বিশেষভাবে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ সেশন চালু করে।
কর্মশালা বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চলেছিল। আল ফালাহ মিলনায়তন, যা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংলগ্ন, প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়। দুই দিনব্যাপী সেশনটি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ছিল, যেখানে প্রত্যেকটি সেশনে ভিন্ন বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা হয়।
দলীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মতে, সংসদে একটি ইতিবাচক ও সৃজনশীল ভূমিকা পালন করতে হলে প্রতিনিধিদের মৌলিক জ্ঞান থাকা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যাতে তারা পার্লামেন্টে বিশ্বাসযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অভিজ্ঞ সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, একাডেমিক গবেষক এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্যদের দল গঠন করা হয়। তারা সংসদীয় কাজের মূল দিক, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং বাজেট আলোচনা সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন করে এবং আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
সেশনগুলিতে বিশেষভাবে বিরোধী দলের দায়িত্ব ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। কীভাবে বিভিন্ন বিলের উপর অবস্থান নিতে হবে, বাজেটের মূল বিষয়গুলো কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পার্লামেন্টে কার্যকরী বিরোধী কণ্ঠস্বর কিভাবে গড়ে তুলতে হবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হয়। এছাড়া সংসদীয় নীতি ও শিষ্টাচার সম্পর্কে মৌলিক দিকগুলোও তুলে ধরা হয়।
স্থায়ী কমিটির কাজের ধরণ, কমিটিতে রিপোর্ট প্রস্তুত করা এবং কমিটি সভায় অংশগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সদস্যদেরকে কমিটিতে কীভাবে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে হয় এবং ভোটের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়—এগুলোও স্পষ্ট করা হয়।
বিকাশের অংশ হিসেবে দ্বিকক্ষীয় সংসদে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়। উভয় কক্ষের ভূমিকা, আইন প্রণয়নের ধাপ এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়। এই তথ্য নতুন প্রতিনিধিদের দ্বিকক্ষীয় প্রক্রিয়ার সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
প্রতিটি সেশনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা নোট নেয় এবং প্রশ্নোত্তর সেশনে তাদের মতামত প্রকাশ করে। সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তবিক পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করতে হবে তা অনুধাবন করে। কর্মশালার সমাপ্তি পর সদস্যরা পার্লামেন্টের আসন্ন অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত বলে জানান।
জামায়াতের লক্ষ্য হল নতুন সংসদ সদস্যদেরকে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে সংসদীয় আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হলে পার্লামেন্টের কাজের গুণগত মান উন্নত হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থায় সমতা বজায় থাকবে।



