গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুরের খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর এলাকায় শুক্রবার ভোরে তিন অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে এক পথচারীর পথে বাধা দিয়ে ছিনতাই করার চেষ্টা করে। লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি চিৎকার করে প্রতিবাদ করলে আশেপাশের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয় এবং দ্রুতই ভিড় গড়ে ওঠে।
ভিড়ের মধ্যে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের একজন পালিয়ে যায়, বাকি দুজনকে উপস্থিত মানুষজন পিটুনিতে লিপ্ত করে। পিটুনি চলাকালীন দুজনের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনা সম্পর্কে জানার পর গাইবান্ধা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব মোবাইলের মাধ্যমে প্রথম আলোকে জানিয়ে দেন যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মৃতদেহ এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, মৃতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি এবং পরিচয় নির্ণয়ের কাজ চলছে।
শরীফ আল রাজীব উল্লেখ করেন, সন্ধ্যাবেলায় স্থানীয় মানুষজনের সহায়তায় মৃতদেহ ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের জন্য গাইবান্ধা পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গিয়েছেন, বাকি দুজনকে ভিড়ের হাতে পিটুনিতে নিহত করা হয়েছে। বর্তমানে গাইবান্ধা পুলিশ ওই পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনকে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার সনাক্তকরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে কোনো অস্ত্রের ব্যবহার বা গুলি চালানোর রেকর্ড পাওয়া যায়নি; পিটুনি মূলত হাতের আঘাতের মাধ্যমে ঘটেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় সাক্ষীদের বিবৃতি নেওয়া হয়েছে এবং ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহের কাজ চলছে।
গাইবান্ধা পুলিশ আইনি দিক থেকে ঘটনাটিকে স্বতঃস্ফূর্ত হিংসা হিসেবে বিবেচনা করে অপরাধমূলক দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর গাইবান্ধা পুলিশের উচ্চতর কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনধিকারিক হিংসা রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত চলমান থাকায় আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



