28 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর সিলেট সফর ও বাণিজ্য নীতি ঘোষণা

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর সিলেট সফর ও বাণিজ্য নীতি ঘোষণা

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সিলেটের সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দেশের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারী পদক্ষেপের বিস্তারিত জানালেন।

মন্ত্রীর মতে, রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করা হবে এবং এ জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, সরকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নে কাজ করবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হল জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখা।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, নতুন সরকার দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক কাঠামো গঠন ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা বাড়াবে। নতুন বাজার অনুসন্ধান, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ শক্তিশালীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মন্ত্রীর সিলেট সফরটি ঢাকা থেকে আকাশপথে শুরু হয়। তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উষ্ণ স্বাগত পান। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর জন্য ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

মন্ত্রীর বক্তব্যে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ গঠনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বাড়ানো এবং শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

সিলেটের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মধ্যে মন্ত্রীর সফরকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে চা শিল্পের প্রতিনিধিরা এবং প্রবাসী বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীর পরিকল্পনা শোনার জন্য উদগ্রীব ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি মন্ত্রীর ঘোষণাকে দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, নতুন বাণিজ্য নীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে এবং রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান উন্নত হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সরকার যদি বাণিজ্যিক নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে, তবে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন শিল্পখাতে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা আনার সুযোগ তৈরি করবে।

মন্ত্রীর সফরের পর সিলেটের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাণিজ্যিক সংস্থা ও শিল্প সমিতি মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজস্ব কৌশল পুনর্বিবেচনা করে নতুন বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, রপ্তানি পণ্যের মানোন্নয়ন, নতুন চুক্তি আলোচনা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল দেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

সারসংক্ষেপে, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সিলেট সফর এবং তার ঘোষিত বাণিজ্য নীতি বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নীতি বাস্তবায়ন হলে শিল্পখাতে রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments