ফিফা গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপে নতুন ফুটবল স্টেডিয়াম গড়ে তোলার জন্য ৫ কোটি ডলার (প্রায় ৬১২ কোটি ১১ লাখ টাকা) অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এর প্রথম বৈঠকে ঘোষিত হয়।
বৈঠকে গাজার জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উল্লেখ করেন, গাজার মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করতে কেবল অবকাঠামো নয়, ফুটবলের মাধ্যমে আশা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চারও প্রয়োজন।
স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ফিফা ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করে একটি উন্নত ফুটবল একাডেমি গড়ার পরিকল্পনা করেছে। এ একাডেমি গাজার তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ প্রদান করবে বলে ইনফান্তিনো জানান।
গাজার বিভিন্ন স্থানে ৫০টি ছোট ফুটবল মাঠ এবং ৫টি পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পগুলো গাজার ফুটবল পরিবেশকে সমগ্রভাবে উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ফিফা এই উদ্যোগকে গাজার সামগ্রিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। ওয়াশিংটনের বৈঠকে বিশ্বের নয়টি দেশ গাজা পুনর্বাসন তহবিলে মোট ৭০০ কোটি ডলার দানের অঙ্গীকার করেছে। এই তহবিলের সঙ্গে ফিফার পরিকল্পনা গাজার মানুষের আশা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
ইনফান্তিনো স্টেডিয়াম ও একাডেমি গড়ে গাজার যুবকদের ফুটবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে বলে জোর দেন। তিনি ফুটবলের বিশ্বজনীন ভাষা হিসেবে ভূমিকা তুলে ধরে, এটি আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গাজার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন ফুটবল দল ১৯৯৮ সালে ফিফার স্বীকৃতি পেয়েও এখনো বিশ্বকাপের সুযোগ পাননি। ফিফার নতুন পরিকল্পনা গাজার বয়সভিত্তিক ও আঞ্চলিক লিগ চালু করে একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল কাঠামো গড়ে তোলার দিকে লক্ষ্য রাখে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার শান্তি প্রক্রিয়ায় ফিফার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি স্থাপনের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই প্রকল্পের সমন্বয় ঘটছে।
ফিফা সভাপতি নিয়মিত হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন সরকার এবং ট্রাম্পের বিভিন্ন শান্তি উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছেন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে গাজার ফুটবল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা ফিফার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ।
স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে নির্মাণ কাজ, সিটিং ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গাজার স্থানীয় শ্রমিক ও কন্ট্রাক্টরদের নিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনেও এই প্রকল্পের ভূমিকা থাকবে।
ফিফা গাজা অঞ্চলে ফুটবলের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি ও যুবকদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প তৈরি করতে চায়। ইনফান্তিনো উল্লেখ করেন, গাজার শিশু ও যুবকদের জন্য নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা সমাজের স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
এইসব পরিকল্পনা গাজার ভবিষ্যৎ ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গাজার উপস্থিতি বাড়াবে। ফিফার এই বৃহৎ বিনিয়োগ গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



