ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে সন্ধ্যায় ছিনতাইকারীর সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার পর আনন্দ মোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন অদৃশ্য হয়ে যায়। শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার শাহজাহান মিয়ার ছেলে এবং তার বন্ধু রিফাত একই সময়ে নদীর পার্শ্ববর্তী জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার বিপরীত দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ছয়টায় দুই তরুণের সঙ্গে ছিনতাইকারী দল উপস্থিত হয়, যারা টাকা চেয়ে হুমকি দেয়। শাওন ও রিফাতের কাছে কোনো নগদ না থাকায় একজন ছিনতাইকারী রিফাতের গালে থাপ্পড় মারেন এবং মোবাইল চায়। শাওন তা প্রত্যাখ্যান করে, ফলে ছিনতাইকারীরা গাছের ডাল দিয়ে দুজনকে আঘাত করতে থাকে। দুজনই পালানোর চেষ্টা করে, তবে রিফাতকে চারজন এবং শাওনকে তিনজন ছিনতাইকারী তাড়া করে।
রিফাত দ্রুত নদীর দিকে সাঁতার কেটে যায় এবং দুজন বালু শ্রমিকের কাছে পৌঁছায়। শ্রমিকরা ঘটনাটি বুঝে এক ছিনতাইকারীকে ধরতে সক্ষম হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরেকজনকে গ্রেফতার করে এবং রিফাতকে নিরাপদে উদ্ধার করে। শাওনের দিক থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; তিনি নদে নেমেছেন নাকি অন্য দিকে দৌড়ে গেছেন তা স্পষ্ট নয়।
বিকাল পাঁচটায় পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং শাওনের বন্ধুদের গঠন করা দলগুলো নদীর তীরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়, তবে শাওনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। সন্ধ্যায় অনুসন্ধান বন্ধ করে রাতের সময় পুনরায় অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়।
রাতের সময় ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, কিন্তু শাওনের সন্ধান না পেয়ে সন্ধ্যা শেষের দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। পরের দিন সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ পুলিশ পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করে, তবে সন্ধ্যা সাতটায়ও শাওনের কোনো সনাক্তকরণ হয়নি।
শাওনের পরিবার ও সহপাঠীরা উদ্বেগের মধ্যে আনন্দ মোহন কলেজের সামনে মানববন্ধন গঠন করে, নিরাপদে তার ফিরে আসার দাবি জানায়। শাওনের মা শাহিদা বেগম মানববন্ধনের সময় কাঁদতে কাঁদতে নিজের সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা শাওনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রদান করেনি। তদন্ত চলমান থাকায় পুলিশ অতিরিক্ত দল গঠন করে নদের তীর ও আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধান বাড়িয়ে দিচ্ছে। শাওনের নিরাপদ ফিরে আসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



