চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে ময়লার স্তূপে আগুন লাগার ফলে এক শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন; ঘটনাটির পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আটজন সহকারী শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তেতৈয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতি বছর প্রায় দুইশো শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে। ওই বছর জানুয়ারি মাসে, স্কুলের মাঠের দক্ষিণ পাশে জমা ময়লার গুঁড়োতে অগ্নি লাগার ঘটনা ঘটে।
ময়লার গুঁড়োর মধ্যে অগ্নি সৃষ্টিকারী বস্তুটি দপ্তর কর্মী সুমন মজুমদার দ্বারা প্রজ্বলিত হয় বলে জানা যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের কাছাকাছি অপেক্ষা করছিলেন সামিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থীকে স্পর্শ করে।
সামিয়া আক্তার, যিনি তখনই দশ বছর বয়সের কাছাকাছি, আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় পড়ে। তাকে তৎক্ষণাৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা সেবা পাওয়া সত্ত্বেও, পাঁচ দিন পর ২৬ জানুয়ারি তার মৃত্যু ঘটে।
শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর জেলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক শোক ও কণ্ঠস্বর উত্থাপিত হয়। ঘটনাটির পর বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেন।
বিভাগীয় আদালতে এই ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে প্রকাশ পায় যে, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর অবহেলা হয়েছে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যথাযথ সতর্কতা গ্রহণ করেননি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন জানান, তদন্তের ফলস্বরূপ প্রধান শিক্ষক মাসুক হাসানের তিন বছরের জন্য ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া, আটজন সহকারী শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলি এবং এক বছরের জন্য বেতন স্কেলের একটি ধাপ নিচে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের নাম হল: ফারুক হোসেন, জসিম উদ্দিন, সাহিদা আক্তার, সুমি আক্তার, রোকেয়া আক্তার, কাজী শাকিরীন, ফয়জুন নেছা এবং ফাতেমা আক্তার। তাদেরকে নতুন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং বেতন হ্রাসের শর্ত আরোপিত হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা রোধের জন্য জেলার ১,১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সতর্কতামূলক চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। চিঠিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই চিঠিতে বিশেষভাবে ময়লার গুঁড়ো সংরক্ষণ, অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষক ও কর্মীদের নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে, এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে বিদ্যালয়গুলোকে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলা এবং অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষার মৌলিক অধিকার।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: বিদ্যালয় বা বাড়িতে অগ্নি ঝুঁকি কমাতে ময়লার গুঁড়ো আলাদা করে সংরক্ষণ করুন, অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং জরুরি অবস্থায় কীভাবে সাড়া দিতে হবে তা শিখে নিন। আপনার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পরিদর্শন করুন এবং কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষকে জানান।



