১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সার্বিক কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকার এখন থেকে হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারের সেবা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা ও বার্তা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করে সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল রোগীর অধিকার রক্ষা এবং সেবার গুণগত মান উন্নত করা।
মন্ত্রীর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কিনা তা তৎক্ষণাৎ যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, কোনো রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তা দ্রুত সনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে জবাবদিহি করা হবে। তদুপরি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কোনো গোষ্ঠী বা সিন্দিকেটকে অপ্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া যাবে না। এই নীতি অনুসরণে হাসপাতালগুলোতে র্যান্ডম চেক এবং নিয়মিত পরিদর্শন চালু করা হবে।
সভায় উপস্থিত স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রীর পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মুহিতকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনি সভায় অংশ নেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এখনো অনেক শূন্য পদ রয়েছে, যার ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদ পূরণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা না হলে সেবার গুণগত মান হ্রাস পাবে।
মুহিত স্বাস্থ্য সচিবকে স্মরণ করিয়ে দেন, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করা হলে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ডাক্তার তৈরি হবে, যা সরাসরি সেবা মানের উন্নতিতে অবদান রাখবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তদারকি প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তালিকা প্রস্তুত করার কথা জানান। এই সভা স্বাস্থ্য সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থা ও রোগী অধিকার সংস্থা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর হলে রোগীর অধিকার রক্ষায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং সেবা গুণমানের ধারাবাহিক উন্নতি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, তারা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নীতি বাস্তবায়নে কোনো বাধা না থাকে।
সারসংক্ষেপে, সরকার এখন থেকে ডাক্তারের সেবা সরেজমিন তদারকি করে রোগীর সুরক্ষা ও সেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার স্বচ্ছতা বাড়বে, শূন্য পদ পূরণে ত্বরান্বিত হবে এবং মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নেও অগ্রগতি হবে। রোগীরা আশা করতে পারেন, ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।



