পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় নন্দনপুর ইউনিয়নের খেয়ারবাড়িয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকালে দুই পরিবারে টাকা লেনদেন নিয়ে তীব্র বিবাদে সংঘর্ষে ৭০ বছর বয়সী আবদুল গফুরের মৃত্যু ঘটেছে। গফুরের পাশাপাশি পাঁচজন অন্য গ্রামবাসী আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ তিনজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে আটক করেছে।
বিবাদের মূল ছিল গফুরের ছেলে আলম এবং খেয়ারবাড়িয়ার আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ। উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বে কয়েকবার কথাবার্তা হয়েও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত দুই পরিবার বিকালের সময় মুখোমুখি হয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করে, যা দ্রুতই শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই স্থানীয় অস্ত্র, ইট ও লাঠি ব্যবহার করে একে অপরকে আঘাত করে। গফুর সহ মোট ছয়জন আঘাত পায়, যার মধ্যে গফুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে তৎক্ষণাৎ সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, অন্যরা নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়।
গফুরকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। আহত অন্যান্য ব্যক্তিরা বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তাদের অবস্থার উন্নতি প্রত্যাশিত।
সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মূলত আলম ও ময়েনের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। তিনি উল্লেখ করেন, গফুরের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার সকালেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। গফুরের পরিবার থেকে ইতিমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিনজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে আটক করা হয়েছে। তাদের থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রমাণ সংরক্ষণ কাজ চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় রেকর্ড, মোবাইল কল রেকর্ড এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহ করা হবে।
ঘটনা ঘটার পর থেকে গ্রামে উত্তেজনা বজায় থাকায় পুলিশ অতিরিক্ত পদবিন্যাস করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষের মন্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে লিখিত চুক্তি এবং মধ্যস্থতা ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হবে।



