ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে টেমস ভ্যালি পুলিশ গ্রেফতারের পর তদন্তাধীন অবস্থায় শুক্রবার মুক্তি দিয়েছে। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেফতার হন এবং একই দিনে পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে যান।
গ্রেফতারটি ঘটেছিল যখন রাজপুত্রকে তার দায়িত্বের সময় অনুপযুক্ত আচরণে অভিযুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে টেমস ভ্যালি পুলিশ তাকে আটক করে এবং তদন্ত শুরু করে।
টেমস ভ্যালি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রুকে তদন্তের সময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখনো তদন্তের অধীনে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, তিনি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মুখোমুখি হননি, তবে তদন্ত চলমান।
আইলশাম পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়, অ্যান্ড্রুকে একটি গাড়ির পেছনের আসনে হেলান দিয়ে বসে দেখা যায়। এই দৃশ্যটি পুলিশ ক্যামেরা রেকর্ড করেছে এবং পরে প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যান্ড্রু সবসময়ই অভিযোগগুলোকে কঠোরভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তিনি কোনো ভুল কাজ করেননি।
পুলিশের মতে, প্রাথমিক মূল্যায়নের পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের পরিধিতে অ্যান্ড্রুর আচরণ, তার কাজের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পূর্বে পুলিশ জানিয়েছিল, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ উঠার ফলে তারা বিষয়টি তদন্তের আওতায় রাখছে। এপস্টিনের সঙ্গে গোপন তথ্যের আদান-প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত নথিতে অ্যান্ড্রু ও এপস্টিনের মধ্যে যোগাযোগের রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। এই নথিগুলোতে দুইজনের মধ্যে ইমেইল ও ফোন কলের তথ্য উল্লেখ রয়েছে, যা তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
পুলিশ আরও জানায়, ২০১০ সালে এপস্টিন এক তরুণীকে অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে একটি আলাদা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নারী ব্রিটিশ নাগরিক না হয়ে, তার বয়স তখন বিশের কোঠায় ছিল। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তদন্ত চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে অ্যান্ড্রু তদন্তাধীন অবস্থায় আছেন এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মুখোমুখি না হলেও, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের ওপর বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। টেমস ভ্যালি পুলিশ উল্লেখ করেছে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবিসি এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করে এবং উল্লেখ করেছে, অ্যান্ড্রু তদন্তের আওতায় থাকবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়নি।
এই ঘটনা ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের ওপর আরোপিত আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানার অধিকার হবে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি এখনো তদন্তের অধীনে রয়েছেন এবং এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগগুলোও একই সঙ্গে তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য আইনগত দায়িত্ব এবং নৈতিক দায়িত্ব উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ রয়ে যাবে।



