28 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরামজানে প্রোটিন পণ্যের দাম কমিয়ে দশ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা

রামজানে প্রোটিন পণ্যের দাম কমিয়ে দশ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা

বাংলাদেশ সরকার রমজান মাসে প্রায় দশ লাখ দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ পণ্যগুলোর দাম কমিয়ে বিক্রির নতুন উদ্যোগ চালু করেছে। গতকাল ঢাকা শহরের লিভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজ্য মন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন এবং পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগের আওতায় মোবাইল বিক্রয় ভ্যানের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, পাস্টারাইজড দুধ, ডিম এবং গরুর মাংস কম মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়কাল ২৬ দিন, যা রমজানের ২৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে।

প্রতিটি পণ্যের নির্ধারিত মূল্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছে: ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি প্রতি কিলোগ্রামে টাকায় ২৪৫, পাস্টারাইজড দুধ প্রতি লিটারে টাকায় ৮০, ডিম প্রতি টুকরোতে টাকায় ৮ এবং গরুর মাংস প্রতি কিলোগ্রামে টাকায় ৬৫০। এই দামের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে মৌলিক প্রোটিন সরবরাহে সহায়তা করা হবে।

মন্ত্রীর মতে, রমজান মাসে কিছু অনৈতিক ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের কষ্টে ফেলে, ফলে নিম্নআয়ের মানুষদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যায়। তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন যে, সরকার এই ধরনের অনিয়ম রোধে এবং বাজারের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু আরও জানান যে, এই প্রোগ্রামটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা যেতে পারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও সমান ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রমজান মাসে দামের অস্থিরতা কমিয়ে দরিদ্র পরিবারের আর্থিক চাপ হ্রাস করা এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

এছাড়াও, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবার কার্ড, কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড চালু করার পরিকল্পনা করছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা বাড়িয়ে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিভাগীয় লিভস্টক পরিষেবার মহাপরিচালক মোঃ আবু সুফিয়ান অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন। লিভস্টক ও পশুপালন সচিব আবু তাহির মুহাম্মদ জাবের এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মশিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সরকারকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ইমেজ প্রদান করে। রমজান মাসে দামের অস্থিরতা কমিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে।

বাজার বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকারী এই সাবসিডি প্রোগ্রাম দীর্ঘমেয়াদে মাংস ও দুগ্ধ পণ্যের মূল্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। মোবাইল বিক্রয় ভ্যানের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছানোর ফলে মধ্যস্থতাকারীর মার্জিন কমে, ফলে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রোগ্রামের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেবে। সরকার জানিয়েছে যে, রমজান শেষে বিক্রয় ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে এবং সফলতা প্রমাণিত হলে এই মডেলটি অন্যান্য মৌসুমে সম্প্রসারিত করা হবে।

সর্বোপরি, রমজানের এই বিশেষ সাবসিডি উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের প্রোটিন গ্রহণ বাড়িয়ে তাদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments