গতকাল বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে গ্রুপ শিরোপা নিশ্চিত করেছে এবং সুপার এইটে অগ্রসর হয়েছে। দলের ক্যাপ্টেন সিকান্দার রাজা ২৬ ball-এ ৪৫ রান সংগ্রহ করে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। তার এই পারফরম্যান্স দলকে গ্রুপ ‘বি’ থেকে সরাসরি সুপার এইটে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে জিম্বাবুয়েকে টুর্নামেন্টের অন্ধকার ঘোড়া হিসেবে কেউ গণ্য করেনি। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে গ্রুপ শিরোপা জয়ের প্রধান প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে জিম্বাবুয়ের অপ্রত্যাশিত জয় অস্ট্রেলিয়ার ওপর টুর্নামেন্টের গতি বদলে দেয়, যা পরবর্তী ম্যাচে তাদের আত্মবিশ্বাসকে তীব্র করে।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ৪৫ রান সংগ্রহকারী সিকান্দার রাজা দ্রুতই আক্রমণ চালিয়ে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। তিনি ২৬ ball-এ ৪৫ রান তৈরি করে আউটসেটের পরেও শ্রীলঙ্কার দমনমূলক বলকে মোকাবেলা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তার দলকে ৪০ রানের পার্থক্যে জয়ী করে তোলেন। এই পারফরম্যান্স তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা এনে দেয়।
সিকান্দার রাজা এই পুরস্কারটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২০তম ম্যাচে পেয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই রেকর্ড গড়ে তোলেন। পূর্বে এই শিরোপা সর্বাধিক ১৭ বার ভারত এ দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পেয়েছিলেন, আর মালয়েশিয়ার বিরানদীপ সিং ২২ বার এই সম্মান অর্জন করলেও, সিকান্দার প্রথম আইসিসি পূর্ণ সদস্যের মধ্যে এই মাইলফলক অর্জন করেছেন।
সিকান্দার রাজা ৩৯ বছর ৩০১ দিন বয়সে ম্যাচের সেরা হয়ে রোহিত শর্মার সর্ববয়সী ম্যাচের সেরা হওয়ার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। রোহিত শর্মা ২০২৪ বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৩৭ বছর বয়সে এই রেকর্ড ধারণ করতেন। সিকান্দারের এই সাফল্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বয়সের সীমা পুনর্নির্ধারণের ইঙ্গিত দেয়।
ক্যাপ্টেন সিকান্দার ম্যাচের পর দলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন, “আমরা প্রত্যেক মুহূর্তে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খেলেছি এবং গ্রুপ শিরোপা জিততে পারা আমাদের জন্য বড় গর্বের বিষয়। সুপার এইটে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিপক্ষকে কঠোর চ্যালেঞ্জ দিয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানো।” তার এই বক্তব্য দলীয় আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে এখন অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য গ্রুপ শিরোপা জয়ী দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে চায়। দলটি এখন পর্যন্ত দেখিয়েছে যে অপ্রত্যাশিত জয় সম্ভব এবং নতুন রেকর্ড গড়ে তোলা যায়।
এই জয় এবং সিকান্দার রাজার রেকর্ড ভাঙা জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখায়। দলটি এখন সুপার এইটে প্রবেশ করে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জিম্বাবুয়ের এই উত্সাহজনক পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং টুর্নামেন্টের বাকি ধাপগুলোতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।



