FK আরকাদাগ, তুর্কমেনিস্তানের নতুন ক্লাব, ২০২৩ সালের এপ্রিলে গঠন করা হয় এবং তৎপরই লিগে প্রবেশ করে। গঠনকালের পর থেকে দলটি কোনো পয়েন্টই হারায়নি, মোট ৮২ লিগ ম্যাচে সব কটিতে জয় নিশ্চিত করেছে। এই ধারাবাহিকতা তিনটি ধারাবাহিক লিগ শিরোপা অর্জনে সহায়তা করেছে, যা দেশের ফুটবলে আগে কখনো দেখা যায়নি।
দলের পেছনে তুর্কমেনিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গুরবনগলি বেরদিমুহামেদভের রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে। তার ‘আর্কাদাগ’ উপাধি, যার অর্থ ‘রক্ষাকর্তা’, শহরের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্লাবের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ৩৩০ কোটি ডলার খরচে নির্মিত স্মার্ট সিটিতে ক্লাবের ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন, যেখানে দেশের সেরা ফুটবলাররা এক ছাদের নিচে একত্রিত হয়ে একটি স্বপ্নদল গঠন করেছে।
লিগের পাশাপাশি আরকাদাগ ঘরোয়া কাপেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী রয়ে গেছে। ১৪টি কাপ ম্যাচের সব কটিতে জয়লাভের মাধ্যমে তারা তিনটি তুর্কমেনিস্তান কাপ এবং দুটি সুপার কাপের মালিক। তবে মহাদেশীয় পর্যায়ে তাদের সাফল্য সীমিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে কুয়েতের আল আরাবির কাছে হারে, ফলে ৬১ ম্যাচের ধারাবাহিক জয়ের রেকর্ড শেষ হয়। তবু দলটি প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ট্রফি জিতে দেশের গর্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
এরপর আরকাদাগ এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে অগ্রসর হয়। গ্রুপ পর্যায় পার হওয়ার পর নকআউট রাউন্ডে সৌদি আরবের আল নাসরের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। আল নাসর দলটি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতিতে বড় দলে পরিণত হলেও, রোনালদো পিআইএফের ওপর বিরোধের কারণে ম্যাচ বয়কট করেন। ফলে রোনালদো ছাড়া আল নাসর ১-০ গোলে জয়লাভ করে, আরকাদাগের মহাদেশীয় যাত্রা শেষ হয়।
ফুটবলে ‘ইনভিন্সিবল’ বা ‘অপরাজেয়’ খ্যাতি অর্জনকারী আর্সেনালের ঐতিহাসিক মৌসুমের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, আরকাদাগের রেকর্ড নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বহন করে। দলটি রাজনৈতিক ক্ষমতার সমর্থন, আধুনিক অবকাঠামো এবং দেশীয় প্রতিভার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে, যা তুর্কমেনিস্তানের ফুটবল দৃশ্যপটকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করেছে। ভবিষ্যতে আরকাদাগের পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও দেশীয় লিগের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা দেশের ফুটবলের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।



