পানির সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আগামী পনেরো দিনের মধ্যে সমগ্র দেশে খাল খননের একটি বৃহৎ কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে।
এই ঘোষণা পঞ্চগড় সার্কিট হাউসে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতের একটি বৈঠকের পর প্রকাশিত হয়। বৈঠকটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে আইন-শৃঙ্খলা, রমজানকালে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব নদী ও জলপথে ড্রেজিং প্রয়োজন সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং বর্তমানে দখলকৃত জলাশয়গুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হবে।
এছাড়া তিনি একটি সমন্বিত খাল পুনঃখনন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যেখানে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসনিক ইউনিট এবং একাধিক মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে দুই হাজার মাইলের বেশি খাল খননের কর্মসূচি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান উদ্যোগটি সেই ঐতিহ্যকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে খাল খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও সমান্তরালভাবে চালু করা হবে।
কর্মসূচি ঘোষণার আগে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বাংলাদেশ গার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি এই বৈঠকে বিভিন্ন দিক থেকে মতবিনিময় করে অঞ্চলটির উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।
বৈঠকে তিনি পঞ্চগড়কে রমজানকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জেলার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে বলেন, খাল খনন প্রকল্পটি দেশের বৃহত্তর উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রোগ্রামটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে, যেখানে প্রতিটি পর্যায়ে নির্দিষ্ট নদী বেসিন ও জলাশয়কে লক্ষ্য করা হবে।
স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং দখলকৃত জলাশয়ের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য একটি তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণই নয়, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিও হবে।
প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কাজের অগ্রগতি ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র তদারকি প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে।
কৃষক ও কৃষি সংস্থাগুলো এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, খাল খননের ফলে সেচের জল সরবরাহ উন্নত হবে এবং ফসলের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো ইকোলজিক্যাল সুরক্ষার প্রতি কঠোর মনোযোগের আহ্বান জানিয়েছে।
পানির সম্পদ মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহে প্রকল্পের বিশদ সময়সূচি, বাজেট এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



