কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার শি. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তৃতীয় তলার ছাদে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১টায় সিট বিতর্কের সময় একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনায় ছাত্রদলের শাখা নেতা হিসেবে পরিচিত ২০১৩‑১৪ সেশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আহত তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের নাক ফেটে রক্তপাত হয় এবং তাকে তৎক্ষণাৎ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি দুইজন শিক্ষার্থী হালকা আঘাত পেয়ে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আহতদের মধ্যে একাউন্টিং ও ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২‑২৩ সেশনের সৌরভ কাব্য, নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩‑২৪ সেশনের তোফায়েল আহমেদ নিবির অন্তর্ভুক্ত।
অভিযুক্তদের তালিকায় আতিকুর রহমানের পাশাপাশি একই সেশনের মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২০১৭‑১৮ সেশনের তরিকুল এবং ২০২৪‑২৫ সেশনের সিফাত নামের একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। সব অভিযুক্তই ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আতিকুর রহমান দত্ত হলের ৫০২ নম্বর কক্ষে কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেন এবং একই সময়ে ২০২৫‑২৬ সেশনের আরেকজন ছাত্রদল কর্মীকে সঙ্গে নেন। পাশাপাশি সিফাতকে অনিয়মিতভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি জানার পর ২০২৪‑২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং হলের সিনিয়রদের বিষয়টি জানায়।
১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান এবং কয়েকজন ছাত্রদল নেতা বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সিটে বসতে নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর মৌখিক তর্ক শুরু হয় এবং রাতের দিকে পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করে, তারা প্রতিবাদ জানাতে চাওয়ার সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন এবং সদস্য সচিব শুভ উপস্থিত থাকায় আতিকুর রহমান নিবিরের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গিয়ে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকের দিকে ঘুষি মারা হয়, যার ফলে তার নাক ফেটে যায়।
ঘটনার পর অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু সাক্ষী জানান, আতিকুরের সঙ্গে থাকা কিছু ছাত্রদল কর্মীও হিংসাত্মক আচরণে যুক্ত ছিলেন।
ইয়ানকোয়ালিটি রেকর্ড অনুযায়ী, কুমিল্লা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফার্মার FIR দাখিল করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ঘটনাটি জানিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করে এবং ছাত্রদলের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি শীঘ্রই সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অফিসের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা হবে। এছাড়া, ছাত্রদলের সকল শাখা নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি দিক থেকে, আতিকুর রহমান এবং সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হিংসা ও আঘাতের জন্য অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে প্রমাণ সংগ্রহ, ভিডিও ফুটেজ এবং সাক্ষী বিবৃতি বিশ্লেষণ করা হবে। আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি পুনরায় তুলে ধরছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, দত্ত হলের সিট বিতর্কে হিংসাত্মক সংঘর্ষের ফলে তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন, যার মধ্যে একজনের নাক ফেটে গুরুতর আঘাত হয়। ঘটনাটির তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



