পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় গত সোমবার গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত ১১ পাকিস্তানি সৈন্য এবং ১২ জন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছায়, শিকারের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, তবে অধিকাংশের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎক্ষণাৎ তালেবানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে, ঘটনাটির জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে আফগান দূতকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং হামলার নিন্দা প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি টিটিপি গোষ্ঠীর চলমান অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, টিটিপি’র নেতৃত্বের ঘাঁটি আফগানিস্তানে অবস্থিত বলে পাকিস্তান সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, “টিটিপি’র কার্যক্রম দমনে আফগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বারবার আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও, বাস্তবিক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
পাকিস্তান সরকার দাবি করে যে, আফগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছে, তবে গৃহযুদ্ধের মতো জঙ্গি কার্যকলাপের দমনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেনি। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
গত বছরের শেষের দিকে দু’দেশের মধ্যে পাল্টা-হামলা ঘটেছিল, যেখানে উভয় পক্ষই সীমান্ত অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়েছিল। সেই সময়ের পর থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা সত্ত্বেও, টিটিপি’র গোপনীয়তা বজায় রেখে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, টিটিপি’র কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র আফগানিস্তানের কিছু অপ্রকাশিত অঞ্চলেই অবস্থিত, যেখানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এই গোপনীয়তা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে সীমান্ত পারাপার গোপনীয় সাপ্লাই লাইন এবং প্রশিক্ষণ শিবিরের ক্ষেত্রে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, যদি টিটিপি’র কার্যক্রমে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সীমান্তে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়তে পারে এবং উভয় দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং তথ্য শেয়ারিং এই ধরনের গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করে, টিটিপি’র নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো নতুন হামলা ঘটলে আরও কঠোর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অফগানিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তালেবান সরকারও এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে তৎকালীন কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে টিটিপি’র কার্যক্রম সীমিত করা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, খাইবারে গাড়িবোমা হামলা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং টিটিপি’র কার্যক্রমের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়িয়েছে। উভয় সরকারই কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান খুঁজতে উদ্যোগী, তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির, এবং ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত আক্রমণ ঘটলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।



