২০১০ সালের শীতকালে কেন্টাকির লুইসভিল শহরে হেয়ারড্রেসার ও ড্র্যাগ পারফর্মার জেমি ক্যারোলের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ক্যারোলের দেহকে বেসমেন্টে গুদামে গোপনে দফন করা হয় এবং পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দুইজন পুরুষ সন্দেহভাজন জোয়ি বানিস এবং জেফ্রি মুন্ডকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
লুইসভিলকে প্রায়ই ডিস্কো বলের জন্মস্থান বলা হয়; শহরের স্থানীয় নাম “গ্লিটার বল”। যদিও শহরটি পার্টি ও সঙ্গীতের জন্য পরিচিত, তবে এই হত্যাকাণ্ডটি তার গৌরবময় চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জেমি ক্যারোল ২০১০ সালের শীতকালে এক রাতের পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মাদক, অশ্লীলতা এবং হিংসা একসঙ্গে ঘটেছিল। পার্টি শেষ হওয়ার পর ক্যারোলকে দুই সন্দেহভাজন একসাথে বেসমেন্টে নিয়ে গিয়ে দেহটি গোপনে দফন করে।
প্রাথমিক তদন্তে উভয় সন্দেহভাজনই অপরাধে জড়িত বলে চিহ্নিত হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদেরকে একসাথে অভিযুক্ত করা সম্ভব হয়নি, ফলে পৃথক বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। জোয়ি বানিসের বিরুদ্ধে প্রথমে দফন ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়, আর জেফ্রি মুন্ডের বিরুদ্ধে একই সময়ে আলাদা মামলা চলমান।
বিনিয়োগের অংশ হিসেবে, দুই-অংশবিশিষ্ট সত্য-অপরাধ ডকুমেন্টারি সিরিজ “Murder in Glitterball City” এইচবিওতে সম্প্রচারিত হয়েছে। সিরিজটি ফেন্টন বেইলি ও র্যান্ডি বারবাটো পরিচালিত, এবং ঘটনাটির বিশদ বিবরণ, সাক্ষ্য এবং ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করে।
ডকুমেন্টারিতে একটি স্ব-রেকর্ডেড ভিডিও প্রদর্শিত হয়, যেখানে জোয়ি বানিস নিজেকে বন্দুকের হুমকিতে জেফ্রি মুন্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মসমর্পণ করে। বানিস ভিডিওতে মুন্ডকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দেয় এবং নিজের দোষ স্বীকার করে। তবে একই রেকর্ডিংয়ের আগে মুন্ডের নির্দেশে বানিসের কথোপকথন সাজানো হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, মুন্ড বানিসকে নির্দিষ্ট বাক্যাংশ ও ভঙ্গি নির্দেশ করে, ফলে বানিসের স্বীকারোক্তি প্রায় সম্পূর্ণভাবে মুন্ডের স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করে। এই বিষয়টি আদালতে উল্লেখ করা হয় এবং স্বীকারোক্তির স্বতন্ত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় সন্দেহভাজনই ক্রিস্টাল মেথের প্রভাবে কাজ করছিলেন। মাদক ব্যবহার তাদের মানসিক অবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছিল বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন। এছাড়া, দুজনেই একে অপরের থেকে ভয় পেতেন, যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছিল।
প্রমাণের ভিত্তিতে, জোয়ি বানিসকে দফন ও হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে শাস্তি পাচ্ছেন। অন্যদিকে, জেফ্রি মুন্ডের বিরুদ্ধে এখনও বিচারের অপেক্ষা চলছে; তার বিরুদ্ধে দফন ও সহ-অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে মুন্ডের বিচারের জন্য অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে স্বীকারোক্তি ভিডিওর প্রামাণিকতা ও মাদক প্রভাবের বিশ্লেষণ। আদালত মুন্ডের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনা হলে, তা তার শাস্তি বাড়াতে পারে।
এই ঘটনাটি লুইসভিলের স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং একই সঙ্গে মাদক ও হিংসার সংযোগ নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



