19 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাওসাকার নগর পানি ব্যবস্থা উন্নয়নে গৌণ দান: ২১ কেজি সোনার বার ৫৬...

ওসাকার নগর পানি ব্যবস্থা উন্নয়নে গৌণ দান: ২১ কেজি সোনার বার ৫৬ কোটি ইয়েন মূল্যের

ওসাকা শহর, যা প্রায় তিন মিলিয়ন বাসিন্দার সঙ্গে কানসাই অঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, গত বৃহস্পতিবার একটি অজানা দাতার কাছ থেকে ২১ কেজি (প্রায় ৪৬ পাউন্ড) সোনার বার পেয়েছে। এই সোনার বারগুলোর মূল্য আনুমানিক ৫৬০ মিলিয়ন ইয়েন, যা প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২.৭ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান। দাতা গোপনীয়তা বজায় রাখতে চেয়েছেন, তাই নাম প্রকাশ করা হয়নি।

মেয়র হিদেয়ুকি ইয়োকোয়ামা এই দানকে শহরের পুরনো পানি ও নিকাশি নেটওয়ার্কের সংস্কার কাজে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিমাণ দান নগরীর বাজেটের ওপর চাপ কমিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নে ত্বরান্বিত করবে। মেয়র উল্লেখ করেন, দানের আকার এত বিশাল যে তিনি শব্দে প্রকাশ করতে পারেন না।

এই গৌণ দান ছাড়াও একই দাতা পূর্বে নগরীর পানি কাজের জন্য অর্ধ মিলিয়ন ইয়েন নগদ দান করেছেন। যদিও পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, তবু তা শহরের জরুরি মেরামত প্রকল্পে সহায়তা করেছে। দাতার ধারাবাহিকতা নগর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে।

ওসাকার পানি ও নিকাশি বিভাগ দান গ্রহণের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, সোনার বারগুলোকে পাইপলাইন পুনর্নবীকরণ ও লিকেজ মেরামতে ব্যবহার করা হবে। বিভাগটি উল্লেখ করেছে, ২০২৪ আর্থিক বছরে শহরের সড়কের নিচে ৯০টিরও বেশি পানি পাইপ লিকের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংখ্যা পুরনো অবকাঠামোর ঝুঁকি নির্দেশ করে।

জাপানের বেশিরভাগ শহরে পানি ও নিকাশি পাইপের বয়স ৪০ বছরের বেশি, এবং স্থানীয় মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী দেশের ২০% এরও বেশি পাইপ এই সীমা অতিক্রম করেছে। পুরনো পাইপের ফলে সৃষ্ট সিঙ্কহোলের ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর সাইতামা প্রিফেকচারে একটি বিশাল সিঙ্কহোল ট্রাকের ক্যাবকে গিলে ফেলেছিল, যার ফলে চালক নিহত হন। এই ঘটনা সরকারকে পাইপ পরিবর্তনের ত্বরান্বিত করার প্রেরণা দিয়েছে।

তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা অবকাঠামো সংস্কারকে ধীর করে তুলছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারগুলো পুরনো পাইপের প্রতিস্থাপন প্রকল্পে তহবিল বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবে আর্থিক ঘাটতি প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে, বেসরকারি দানের গুরুত্ব বাড়ছে, বিশেষ করে যখন দাতা গোপনীয়তা বজায় রেখে উল্লেখযোগ্য সম্পদ প্রদান করছেন।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দান শহরের নির্মাণ ও ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সোনার মূলধন নগরীর বাজেটের ওপর সরাসরি চাপ কমিয়ে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেবে। এছাড়া, অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী, কন্ট্রাক্টর ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ডার বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে উদ্দীপনা দেবে।

অন্যদিকে, সোনার দান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সমাধান নয়। গৌণ দান একবারের জন্য সীমিত, এবং ভবিষ্যতে একই মাত্রার দান প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই ওসাকা শহরকে টেকসই তহবিল সংগ্রহের জন্য কর বৃদ্ধি, বন্ড ইস্যু বা অন্যান্য পাবলিক ফাইন্যান্সিং মেকানিজম বিবেচনা করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, গোপন দাতার ২১ কেজি সোনার বার ওসাকার পুরনো পানি নেটওয়ার্কের সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে, তবে অবকাঠামো পুনর্নবীকরণের জন্য ধারাবাহিক আর্থিক সমর্থন অপরিহার্য। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা, পাশাপাশি স্বচ্ছ তহবিল ব্যবস্থাপনা, ভবিষ্যতে সিঙ্কহোল ও লিকেজের ঝুঁকি কমিয়ে শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments