২০ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাজ্যের স্যান্ডরিংহ্যাম প্রাসাদের সম্পত্তিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি রাজা চার্লসের ভাই হিসেবে পরিচিত এবং এই ঘটনার ফলে রাজপরিবারের সুনাম ও সংবিধানিক কাঠামো উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
গ্রেফতারের সময় তাকে তার নিজস্ব বাসা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফটোগ্রাফ তোলা হয় এবং আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি আইনগত প্রোটোকল অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
অ্যান্ড্রু সাম্প্রতিক সময়ে উইন্টারস গ্রেট পার্কের রয়্যাল লজে ৩০ কক্ষের বিশাল বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এই সম্পত্তি রাজপরিবারের অন্যতম প্রিয় বাসস্থান হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজপ্রাসাদ থেকে একটি প্রকাশনা জারি করে নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা করেন এবং তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা দাবি করেন। সেই বিবৃতি তার আইনগত অবস্থানকে সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছিল।
মাসের আগে, তিনি কেন্টের ডাচেসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ওয়েস্টমিনস্টার ক্যাথেড্রালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ চিত্র উপস্থাপন করে জনসাধারণের দৃষ্টিতে তার অবস্থানকে মজবুত করার চেষ্টা করেন।
২০১১ সালে বাণিজ্যিক দূতিত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরও, অ্যান্ড্রু বকিংহাম প্যালেসকে পিচ@প্যালেস নামে তার বিনিয়োগ উদ্যোগের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এই উদ্যোগটি তরুণ উদ্যোক্তাদের সমর্থন করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছিল এবং রাজপ্রাসাদের সঙ্গে তার সংযোগকে তুলে ধরতে সহায়তা করেছে।
গ্রেফতার পর, রাজা চার্লস অ্যান্ড্রুর শিরোনাম ও রয়্যাল লজের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পদক্ষেপ নেন এবং তিনি যে কোনো তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সিদ্ধান্তটি দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।
রাজা অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার সংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ঘটনাটির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা জানান। এই বিবৃতিতে তিনি পারিবারিক সম্পর্কের কোনো উল্লেখ না করে কেবলমাত্র সরকারি দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
অ্যান্ড্রুর সমর্থকরা যুক্তি দেন যে, রাজা পরিবারের প্রতি ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে আলাদা হয়ে তার দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই পদক্ষেপগুলো রাজপরিবারের স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাজপরিবারের জীবনীকার এবং বন্ধু জোনাথন ডিম্বলবি সম্প্রতি একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামে মন্তব্য করেন যে, এই গ্রেফতার ফলে রাজতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তিনি পরিবার ও সংস্থার মধ্যে পার্থক্য করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, পারিবারিক সমস্যাকে সরাসরি রাজতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হলেও তা সঠিক নয়।
কয়েকজন বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে, অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার ফলে রাজপ্রাসাদকে সাময়িক শ্বাস নেওয়ার সুযোগ মিলবে এবং জনমতকে পুনর্গঠন করার জন্য একটি নতুন দিক খুলে যাবে। তারা আশা করেন যে, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে রাজপরিবারের সুনাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে, তদন্তের ফলাফল এবং অ্যান্ড্রুর আইনি অবস্থার ওপর নির্ভর করে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও জনসাধারণের বিশ্বাসে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি, এই ঘটনা রাজতন্ত্রের আধুনিকীকরণ ও জনসেবার প্রতি দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



