NASA সম্প্রতি প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের স্টারলাইনার মিশনকে “টাইপ এ” দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই শ্রেণীবিভাগের মানে হল দুই মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি, যানবাহন হারানো বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষতি, অথবা প্রাণহানি। মিশনটি দুইজন মহাকাশচারীকে প্রায় নয় মাসের বেশি সময়ের জন্য কক্ষপথে আটকে রেখেছিল, যা মার্চ মাসে নিরাপদে ফিরে আসে।
“টাইপ এ” NASA-র সর্বোচ্চ স্তরের দুর্ঘটনা, যা পূর্বের শাটল বিপর্যয় যেমন ২০২৩ সালের কলম্বিয়া এবং ১৯৮৬ সালের চ্যালেঞ্জারকে সমান করে। এই বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয় এমন ঘটনা যেখানে সম্পদের ক্ষতি, যানবাহনের হারানো বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষতি, অথবা মৃত্যুর ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যদিও স্টারলাইনার মিশনে কোনো শারীরিক আঘাত হয়নি, নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি এবং দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা উচ্চ স্তরের সতর্কতা দাবি করে।
২০২৪ সালে বয়িং নির্মিত স্টারলাইনার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশযান হিসেবে পরিকল্পিত, লঞ্চের পর ইঞ্জিন ও সিস্টেমে ধারাবাহিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলস্বরূপ, দুইজন মহাকাশচারী—একজন নাসা এবং একজন বয়িং প্রতিনিধি—কক্ষপথে আটকে রইল এবং প্রায় নয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত, জরুরি মেরামত ও পুনঃনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মার্চ ২০২৫-এ নিরাপদে পৃথিবীতে অবতরণ করা সম্ভব হয়।
নতুন নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই ফলাফলকে “টাইপ এ” হিসেবে ঘোষণার পর বয়িং এবং নাসা উভয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ত্রুটি নির্দেশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে স্টারলাইনার পূর্বের মিশনগুলোতে পুনরাবৃত্তি হওয়া সমস্যাগুলো সত্ত্বেও পরীক্ষামূলক মিশন অনুমোদিত হয়েছিল। আইজ্যাকম্যানের মতে, এই ত্রুটিগুলো সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি পুনরায় দেখা দিতে পারে।
আইজ্যাকম্যান, যিনি শৌখিন জেট পাইলট এবং প্রথম অ‑প্রফেশনাল মহাকাশচারী হিসেবে স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে নাসার প্রধান পদে নিযুক্ত হন। তার নামকরণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য; ট্রাম্প প্রথমে আইজ্যাকম্যানকে প্রস্তাব করেন, তবে টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান এলন মাস্কের সঙ্গে চলমান বিরোধের কারণে নাম প্রত্যাহার করেন। শেষ পর্যন্ত, দ্বিগুণ প্রস্তাবের পর আইজ্যাকম্যানকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্বাধীন তদন্ত দল ৩১২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে হার্ডওয়্যার ব্যর্থতা, নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্ত এবং সংস্থার সংস্কৃতিগত সমস্যাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে, সিস্টেমের রেডান্ডেন্সি নিশ্চিত না করা, জরুরি প্রোটোকল অনুসরণে ঘাটতি এবং প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণ বয়িংকে প্রযুক্তিগত দায়িত্ব এবং নাসাকে ব্যবস্থাপনা দায়িত্বের দিকে দৃষ্টিপাত করতে বাধ্য করেছে।
“টাইপ এ” শ্রেণীবিভাগের ফলে স্টারলাইনার মিশনকে ২০২৩ সালের কলম্বিয়া এবং ১৯৮৬ সালের চ্যালেঞ্জার শাটল দুর্ঘটনার সঙ্গে সমমানের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও দুইটি শাটল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে, স্টারলাইনার মিশনে শারীরিক ক্ষতি না থাকলেও নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা এবং দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা একই স্তরের ঝুঁকি নির্দেশ করে। এই তুলনা নাসার নিরাপত্তা সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার সংকেত দেয়।
নাসা এখন থেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব স্পষ্ট করে, সংশ্লিষ্ট সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতি প্রয়োগ করবে। স্টারলাইনার প্রোগ্রামের জন্য অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি, বয়িংকে ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য কঠোর মানদণ্ড মেনে চলতে বাধ্য করা হবে।
মহাকাশ অনুসন্ধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা এবং ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা অপরিহার্য। পাঠকরা কি মনে করেন, নাসা এবং বয়িং কীভাবে এই ধরনের উচ্চ‑ঝুঁকির প্রকল্পে আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে পারে? ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



