19 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রাবোও সোবিয়ান্তোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দোনেশিয়া শুল্ক হ্রাস চুক্তি স্বাক্ষর

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রাবোও সোবিয়ান্তোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইন্দোনেশিয়া শুল্ক হ্রাস চুক্তি স্বাক্ষর

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সোবিয়ান্তো বুধবার ওয়াশিংটনে শুল্ক হ্রাস নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দুই নেতা ১৯% শুল্কে পৌঁছানোর জন্য পূর্বের ৩২% হারকে কমিয়ে আনতে সম্মত হন। চুক্তিটি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

মার্কিন সরকার ইন্দোনেশিয়ার আমদানি শুল্ককে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে, যা পূর্বের ৩২ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস। এই হ্রাসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক খাবার, প্রযুক্তি ও গাড়ি-সম্পর্কিত পণ্যের উপর শুল্ক কমে যাবে। শুল্ক হ্রাসের পরিমাণ ১৯ শতাংশে স্থির করা হয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহে ত্বরান্বিত প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া ৯৯ শতাংশের বেশি আমেরিকান পণ্যের উপর বাণিজ্যিক বাধা হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে কৃষি পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম, সামুদ্রিক খাবার, উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য এবং গাড়ি-সম্পর্কিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে আমেরিকান পণ্যের প্রবেশ সহজ হবে এবং স্থানীয় ভোক্তাদের পছন্দের পরিসর বাড়বে।

মার্কিন সরকার কিছু ইন্দোনেশিয়ান পণ্যের জন্য শুল্ক অব্যাহতি প্রদান করেছে, বিশেষত এমন পোশাক ও বস্ত্র যা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম ফাইবার দিয়ে তৈরি। এই অব্যাহতি ইন্দোনেশিয়ান রপ্তানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। ফলে উভয় দেশের রপ্তানি-আমদানি ভারসাম্য আরও সমন্বিত হতে পারে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার উল্লেখ করেছেন, এই চুক্তি বাণিজ্যিক বাধা হ্রাসের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি এটিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রাবোও সোবিয়ান্তো ওয়াশিংটনে তার ভ্রমণকালে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন, একই সময়ে তিনি ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন “শান্তি বোর্ড”ের প্রথম সভায় অংশ নেন, যেখানে গাজা পুনর্নির্মাণের বিষয় আলোচনা হয়। এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকার বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপেরও সূচনা করে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির নিরাপত্তা ও নির্গমন মানদণ্ড গ্রহণ করবে এবং আমেরিকান খাদ্য ও ওষুধের মানদণ্ড অনুসরণ করবে, বিশেষত চিকিৎসা যন্ত্র ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে। এই মানদণ্ডের গ্রহণ ইন্দোনেশিয়ার বাজারে আমেরিকান পণ্যের গুণগত মানের স্বীকৃতি বাড়াবে। পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়া আমেরিকান কৃষি ও প্রযুক্তি পণ্যের উপর বাধা কমিয়ে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ দেবে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শুল্ক হ্রাস যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়াবে, বিশেষত কৃষি ও প্রযুক্তি সেক্টরে। আমেরিকান রপ্তানিকারকরা ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ ভোক্তা বাজারে নতুন সুযোগ পাবে, যা বিক্রয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদকরা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মানদণ্ডের সাথে মানিয়ে নিতে প্রযুক্তি ও গুণগত মান উন্নয়নে চাপের মুখে পড়বে।

দীর্ঘমেয়াদে, শুল্ক হ্রাসের ফলে উভয় দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারের বৈচিত্র্য বাড়বে। তবে ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় শিল্পে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়ার ফলে প্রতিযোগিতার তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা নীতি নির্ধারকদের জন্য সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে অতিরিক্ত সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments