অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বি গ্রুপে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার প্যাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে ওমানের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় শুরু হবে, যা অস্ট্রেলিয়ায় রাত ১২:৩০ টা হবে। দলটি ইতিমধ্যে গ্রুপ পর্যায় থেকে বাদ পড়েছে, ফলে এই ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে কোনো প্রভাব রাখবে না।
এই এডিশনের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি দল রয়েছে, এবং শীর্ষ দুই দল সুপার ইট পর্যায়ে অগ্রসর হবে। অস্ট্রেলিয়া এই টুর্নামেন্টে বাছাই দল হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিল, আর আইসিসি গ্রুপ পর্যায় শেষ হওয়ার আগে সুপার ইটের হোস্ট দেশ ও ভেন্যু নির্ধারণ করে রেখেছিল। গ্রুপের ফলাফল অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া যদি সুপার ইটে পৌঁছাত, তবে তাদের ভারতীয় মাটিতে খেলতে হতো।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৬৭ রানে পরাজিত করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিল। তবে পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হারের পর দলটি কঠিন অবস্থায় পড়ে। তিন দিন পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে পরাজয় তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাতিল হয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপে অগ্রগতি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই ফলাফলে দলটি গ্রুপ পর্যায়ের শেষের আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য গ্রুপ পর্যায়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসা নতুন নয়; ২০০৯ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজয়ের পর তারা প্রথম রাউন্ডেই টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল। তবে এইবারের ব্যতিক্রম হল তারা ক্যারিবীয় দলের কাছে হেরে গ্রুপে বিপদে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়া এখন ওমানের মুখোমুখি হবে, যা আইসিসি দ্বারা স্বীকৃত সহযোগী সদস্য দেশ। ওমানের সঙ্গে এই শেষ ম্যাচটি কোনো টুর্নামেন্ট পয়েন্টের জন্য নয়, বরং দলটির শেষ পারফরম্যান্সের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া দলকে কলম্বো থেকে দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী তাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভক্তদের জন্য রাতের অর্ধরাত পর্যন্ত জাগা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার সময় রাতের গভীরে অনুষ্ঠিত হবে। কাজের দিন শুরু হওয়ার আগে এই ম্যাচটি দেখার জন্য অনেক ভক্তকে অল্প সময়ের জন্য জাগতে হবে।
আইসিসি টুর্নামেন্টের শিডিউল ও গ্রুপ গঠন নিয়ে কোনো পরিবর্তন না করে, গ্রুপ পর্যায়ের শেষে স্বাভাবিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোকে বাদ দেয়ার নীতি বজায় রেখেছে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে এখন ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, বিশেষ করে আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজ ও বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে।
এই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অপ্রত্যাশিত প্রস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক স্বভাবকে আবারও তুলে ধরেছে, যেখানে কোনো দলই গ্রুপ পর্যায়ে নিরাপদ নয়।



