ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে চতুর্থ অভিশংসন পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। পিটিশনটি বৃহস্পতিবার এএফপি সংগ্রহ করা নথি থেকে প্রকাশ পেয়েছে এবং এতে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার ও অপ্রকাশিত সম্পদের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুতের্তের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ঝুঁকির মুখে।
এএফপি কর্তৃক সরবরাহিত নথিতে উল্লেখ আছে যে, দুতের্তের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের দুর্ব্যবহার এবং অপ্রকাশিত সম্পদের সংক্রান্ত উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে, তিনি সরকারি তহবিলকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এবং সম্পদের স্বচ্ছতা না দেখিয়ে আইনগত দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তি করে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ দাখিলের সময়সূচি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুতের্তের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই পিটিশনটি জমা দেওয়া হয়। তার প্রার্থীতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়ে তুলেছে। দায়েরকারী দল দাবি করে যে, এই সময়সীমা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
সারা দুতের্তের পূর্বে ২০২২ সালের শেষের দিকে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তবে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে সর্বোচ্চ আদালত (সর্বোচ্চ আদালত) সেই মামলাটি বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের পরেও দুতের্তের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা পূর্বের মামলার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং নতুন আর্থিক অনিয়মের দিক নির্দেশ করে।
ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, অভিশংসন পিটিশন গৃহীত হলে বিষয়টি সিনেটে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয়। যদি দুতের্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত হবেন এবং প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার হারাবেন। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে চূড়ান্তভাবে শেষ করতে পারে।
লা ইউনিয়ন প্রদেশের প্রতিনিধি পাওলো ওর্তেগা এই পিটিশনকে “সংবিধানিক জবাবদিহিতার বিষয়” বলে উল্লেখ করেন এবং অপ্রকাশিত সম্পদকে “গুরুতর ইস্যু” হিসেবে চিহ্নিত করেন। ওর্তেগা দাবি করেন যে, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পদের স্বচ্ছতা না থাকলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি স্বরূপ। তার মন্তব্যে এই অভিশংসন প্রক্রিয়াকে আইনগত ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।
ওর্তেগার সমর্থনে দুইজন আইনপ্রণেতা আছেন, যারা নতুন অভিযোগকে পূর্বের মামলাগুলোর মতোই দুর্নীতি ও অনিয়মের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুতের্তের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা না থাকলে তা দেশের শাসনব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। এই সমর্থন দলিলগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
৯ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা একটি অভিযোগে বলা হয়েছে যে, দুতের্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কমপক্ষে এক কোটি মার্কিন ডলার দানকারী তহবিল আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগের সমর্থক আইনপ্রণেতা লেইলা দে লিমা উল্লেখ করেন যে, এটি গত বছর সর্বোচ্চ আদালত (সর্বোচ্চ আদালত) দ্বারা খারিজ হওয়া মামলার “উন্নত সংস্করণ”। তিনি যুক্তি দেন যে, নতুন পিটিশনটি পূর্বের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আরও শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করেছে।
দুতের্তের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কেস জুনিয়রের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর দুতের্ত ও মার্কেসের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ তীব্র হয়ে ওঠে; দুতের্তকে তার কাঙ্খিত মন্ত্রিপরিষদ পদ না দিয়ে শিক্ষা সচিব নিযুক্ত করা হয়। এই ঘটনাগুলো দুনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, দুতের্তের প্রার্থীতা তার মিত্রদের একত্রিত করার এবং তার রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার কৌশল হতে পারে। যদি অভিশংসন পিটিশন সফল না হয়, তবে তিনি নির্বাচনী মঞ্চে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থিত হতে পারেন। অন্যদিকে, যদি সিনেটের বিচার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি ফিলিপাইনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে।



