স্পেনের ফুটবলে ‘নেগ্রেইরা কেস’ নামে পরিচিত একটি মামলায় বার্সেলোনা, লা লিগা এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের অংশগ্রহণ প্রকাশিত হয়েছে। মামলাটি রেফারিদের উপর অর্থ প্রদান করে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে, যা স্প্যানিশ কোর্টে বর্তমানে তদন্তাধীন।
বার্সেলোনা ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির সাবেক উপ-সভাপতি জোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরাকে অর্থ প্রদান করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সময়কালে ক্লাবটি মোট কত টাকা প্রদান করেছে তা প্রকাশ্যে না থাকলেও, অর্থের উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বার্সেলোনা দাবি করে যে, নেগ্রেইরাকে দেওয়া অর্থ রেফারিদের টেকনিক্যাল রিপোর্ট এবং খেলোয়াড়দের স্কাউটিং রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য ছিল। ক্লাবের মতে, এই অর্থের সঙ্গে কোনো ম্যাচের ফল পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই এবং কোনো প্রমাণ এই দিকটি সমর্থন করে না।
লা লিগার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার তেভাস এই বিষয়টি নিয়ে বার্সেলোনার পক্ষে কথা বলেছেন। তেভাসের মতে, বার্সেলোনা কখনোই রেফারিদের অর্থ প্রদান করে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ক্লাবটি প্রথমে পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদকে নয়।
তেভাস আরও উল্লেখ করেছেন যে, স্পেনের ক্রীড়া আইনে তিন বছরের সময়সীমা নির্ধারিত আছে, যা তিনি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন। তিনি ভবিষ্যতে এমন অপরাধের জন্য দীর্ঘতর সময়সীমা প্রস্তাব করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যাতে দায়িত্বশীলরা যথাযথভাবে বিচারিত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট তেভাস স্পোর্টিং শাস্তি এবং ফৌজদারি দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, নেগ্রেইরার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনকে স্পোর্টিং শাস্তির আওতায় আনা উচিত, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফৌজদারি দায়িত্বের দিকে নিয়ে যাবে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকলে, ক্লাবকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
মামলাটির বর্তমান অবস্থা হল আদালতে চলমান তদন্ত, যেখানে নেগ্রেইরার আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। আদালত এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি, তবে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রেখেছে।
বার্সেলোনা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা রেফারিদের সঙ্গে কোনো অনৈতিক লেনদেন করেনি এবং নেগ্রেইরাকে প্রদান করা অর্থ সম্পূর্ণভাবে টেকনিক্যাল ও স্কাউটিং কাজের জন্যই ছিল। ক্লাবের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, নেগ্রেইরার সঙ্গে করা চুক্তি স্বচ্ছ ছিল এবং কোনো গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়নি।
নেগ্রেইরা, যিনি রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির সাবেক উপ-সভাপতি ছিলেন, তার ভূমিকা এবং ক্লাবের সঙ্গে তার আর্থিক সম্পর্কের বিশদ এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে তার নামের সঙ্গে যুক্ত এই মামলাটি স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লা লিগা তেভাসের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, রিয়াল মাদ্রিদ এই মামলায় কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং বার্সেলোনার সঙ্গে তার কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সব ক্লাবই আইনের অধীনে সমানভাবে বিচারিত হওয়া উচিত এবং কোনো ক্লাবকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্য করা উচিত নয়।
মামলাটির ফলে স্প্যানিশ ফুটবলে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা এই তদন্তকে স্পোর্টিং গভার্নেন্সের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন, যদিও তারা কোনো অনুমান বা ভবিষ্যদ্বাণী করেনি।
বার্সেলোনা এবং লা লিগা উভয়ই আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলাটি সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান বজায় রাখবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।



