কিট হারিংটন এবং সোফি টার্নার নতুন হরর চলচ্চিত্র ‘দি ড্রেডফুল’‑এর চুম্বন দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন অপ্রত্যাশিত শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখানো এক ক্লিপ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইটের হাতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন অভিনেতা ক্যামেরা রোলের শেষে পরিচালক “কাট। সুন্দর।” বলে ডাকা মাত্রই হঠাৎ গ্যাগিং শুরু করে। এই মুহূর্তটি শুটিংয়ের তীব্রতা ও অস্বস্তি প্রকাশ করে, যদিও দৃশ্যটি কল্পিত রোমান্সের অংশ।
ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, পরিচালক নির্দেশের পর দুজনই মুখে হাত নিয়ে শ্বাস নিতে বাধা পায় এবং অস্বস্তিকর শব্দ করে। শুটিং টিম দ্রুত দৃশ্যটি থামিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, ফলে কোনো আঘাতের রিপোর্ট নেই। এই ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া সাধারণত তীব্র আবেগময় দৃশ্য বা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে ঘটে, যা অভিনেতাদের শারীরিক সীমা পরীক্ষা করে।
কিট হারিংটন এবং সোফি টার্নার আগে আট সিজন জুড়ে এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোন্স’‑এ অর্ধ‑ভাইবোন জোন স্নো ও সান্সা স্টার্কের ভূমিকায় একসাথে কাজ করেছেন। সেই সিরিজে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জটিল ও তীব্র ছিল, যা ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন দুজনই একই চলচ্চিত্রে প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে পুনরায় একসাথে কাজ করছেন, যা শুটিং সেটে অতিরিক্ত মনোযোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘দি ড্রেডফুল’ ছবির কাহিনী অনুসারে, সোফি টার্নার অভিনীত অ্যান এবং তার শাশুড়ি মরওয়েন (মার্সিয়া গে হার্ডেন) সমাজের প্রান্তে একা-একা জীবনযাপন করে। হঠাৎ করে কিটের চরিত্রে অভিনীত এক পুরুষ তাদের অতীত থেকে ফিরে আসে এবং এক সিরিজ ভয়ঙ্কর ঘটনার সূচনা করে, যা অ্যানের জীবনে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন নিয়ে আসে। ছবিটি হরর ঘরানার ধীর গতি গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও, চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
শুটিংয়ের আগে কিট হারিংটন প্রকাশ্যে বলেছিলেন, প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে একে অপরের সঙ্গে চুম্বন করা তার জন্য অস্বাভাবিক অনুভূতি জাগায়। তিনি উল্লেখ করেন, টার্নার উচ্চতা তার চেয়ে প্রায় এক ফুট বেশি হওয়ায় তাকে অ্যাপল বক্সে দাঁড়াতে হয়, যা কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। তবু তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও তার গর্ব ও মর্যাদা বজায় ছিল এবং তিনি দৃশ্যটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
চুম্বন দৃশ্যের শুটিং সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে এবং চলচ্চিত্রের পোস্ট‑প্রোডাকশন কাজ এখনো চলমান। পরিচালক দৃশ্যের ভিজ্যুয়াল ও শোনার দিককে সূক্ষ্মভাবে সাজাতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে দর্শকরা হররের পরিবেশে রোমান্সের অস্বস্তিকর মিশ্রণ অনুভব করতে পারেন। শুটিং টিমের মতে, গ্যাগিং ঘটনা শুটিংয়ের স্বাভাবিক ঝুঁকি, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
প্রাথমিক সমালোচনায় থিয়েটার হোলিকের রিভিউয়ার ফ্র্যাঙ্ক স্কেচ ছবিটিকে ধীর গতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এটিকে শেষ পর্যন্ত ‘ফিজল’ (অর্থাৎ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ) বলে সমালোচনা করেছেন। তবে মার্সিয়া গে হার্ডেনের পারফরম্যান্সকে তিনি একমাত্র উজ্জ্বল দিক হিসেবে প্রশংসা করেন এবং তার চরিত্রের ধারাবাহিকতা কামনা করেন। এই সমালোচনা ছবির সামগ্রিক প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে দর্শকরা এখনও হরর ঘরানার ভক্ত হিসেবে কৌতূহল বজায় রেখেছেন।
‘দি ড্রেডফুল’ চলচ্চিত্রটি শুক্রবার থিয়েটার ঘরে মুক্তি পাবে এবং শোবার ঘরে হররের স্বাদ নিতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে। ছবির প্রচার দল ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে টিজার প্রকাশ করেছে, যেখানে অ্যান ও মরওয়েনের একাকী জীবন এবং হঠাৎ ফিরে আসা পুরুষ চরিত্রের অশুভ উপস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তির আগে এই গ্যাগিং ঘটনার ভিডিওই বেশ কিছু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শুটিংয়ের পেছনের কঠিন পরিশ্রমের ইঙ্গিত দেয়।
অভিনেতা দুজনের জন্য এই দৃশ্যটি শুটিংয়ের এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা অতিক্রম করেছে। দর্শকরা এখন ছবির মুক্তি নিয়ে উত্তেজনা প্রকাশ করছেন এবং হরর ও রোমান্সের মিশ্রণ কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে আগ্রহী। শুটিংয়ের এই অস্বাভাবিক মুহূর্তটি চলচ্চিত্রের প্রচারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি দর্শককে থিয়েটারে টিকিয়ে রাখবে।



