ব্রেনডন ফ্রেজার ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার ভূমিকায় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অভিনয় করেছেন। ফোকাস ফিচার্সের নতুন চলচ্চিত্র ‘প্রেসার’ এর ট্রেইলার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং ছবিটি ২৯ মে থিয়েটারে প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।
চলচ্চিত্রটি লেখক-পরিচালক অ্যান্থনি মারাসের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি, যেখানে অ্যান্ড্রু স্কট, ক্যারি কন্ডন, ড্যামিয়ান লুইস এবং ক্রিস মেসসিনা সহ একটি শক্তিশালী কাস্ট যুক্ত হয়েছে। মারাসের পরিচালনায় এই দলটি ঐতিহাসিক ঘটনার পুনর্নির্মাণে একত্রিত হয়েছে।
‘প্রেসার’ মূলত ডি-ডে আক্রমণের পূর্ববর্তী দিনগুলোতে আইজেনহাওয়ার এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মেটিওরোলজিস্ট ক্যাপ্টেন জেমস স্ট্যাগের মধ্যে হওয়া ঝুঁকি বিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে। দুজনই আবহাওয়ার অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন এবং শত্রু শক্তির প্রতিক্রিয়া নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেন, যা নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর আক্রমণের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমুদ্র-ভিত্তিক আক্রমণ হিসেবে ডি-ডে পরিচিত, এবং তার সঠিক সময় নির্ধারণের দায়িত্ব আইজেনহাওয়ারের হাতে ছিল। ট্রেইলারে ফ্রেজার এই দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে ডি-ডের সময় নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই।
অ্যান্ড্রু স্কটের চরিত্র, ক্যাপ্টেন স্ট্যাগ, প্রকৃতপক্ষে ঝড়ের হুমকি এবং প্রকৃতির ক্রোধের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আবহাওয়া পরিবর্তন না হলে আক্রমণ বিপর্যস্ত হতে পারত, তাই মেটিওরোলজিস্টের বিশ্লেষণ মিত্রবাহিনীর পরিকল্পনার মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ায়।
চিত্রনাট্যটি ডেভিড হেইগের ২০১৪ সালের স্টেজ প্লে থেকে অনুপ্রাণিত এবং অ্যান্থনি মারাস ও হেইগের যৌথ রচনায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই ভিত্তি চলচ্চিত্রকে ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে নাট্যিক গঠনকে মিশ্রিত করতে সহায়তা করে।
প্রযোজনা দায়িত্বে টিম বেভান, এরিক ফেলনার, ক্যাস মার্কস এবং লুকাস ওয়েব রয়েছেন, যারা চলচ্চিত্রের গুণমান ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে একত্রিত হয়েছেন। তাদের সমন্বয়ে ‘প্রেসার’ একটি উচ্চমানের ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে গড়ে উঠেছে।
ব্রেনডন ফ্রেজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি ২০২২ সালে ড্যারেন আরোনোফস্কির ‘দ্য হোয়েল’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সর্বোচ্চ অভিনেতা অস্কার জিতেছিলেন এবং ‘কিলারস অফ দ্য ফ্লাওয়ার মুন’, ‘ব্রাদার্স’ ও ‘রেন্টাল ফ্যামিলি’ সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।
ফ্রেজার ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল দ্বারা ২০২৮ সালে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘দ্য মামি’ সিরিজের নতুন সিক্যুয়েলে রিক ও’কনেল্টের ভূমিকায় ফিরে আসবেন। এই প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অ্যান্ড্রু স্কটের সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে ২০২৫ সালের ‘ব্যাক ইন অ্যাকশন’, ‘ব্লু মুন’ এবং ‘ওয়েক আপ ডেড ম্যান’ উল্লেখযোগ্য, যা তার বহুমুখী অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে। তার এই অভিজ্ঞতা ‘প্রেসার’ ছবিতে মেটিওরোলজিস্টের চরিত্রে গভীরতা যোগ করেছে।
‘প্রেসার’ ডি-ডে পরিকল্পনার পেছনের কৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক দিকগুলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক ঘটনার মানবিক দিক এবং নেতৃত্বের জটিলতা তুলে ধরার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



