কুয়াকাটার হুইসেন পাড়া এলাকায় অবস্থিত তানিসা আচার ঘর দোকানে সাম্প্রতিক সময়ে এক গোষ্ঠী আক্রমণ করে লাঠি-ধাক্কা দিয়ে ভাঙচুর করে। দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার ঘটনাটি মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানিয়ে দেন। অভিযোগে মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ অজানা পাঁচ-ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।
হামলাকারীরা চাঁদা দাবির ছদ্মবেশে লাঠি নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে, কর্মচারী হাসানকে মারধর করে এবং গৃহস্থালির সামগ্রী নষ্ট করে। এক পর্যায়ে মাকসুদ আকন দোকানের ভিতরে ঢুকে গালাগাল করেন এবং ক্যাশবক্স থেকে দুই লাখ টাকার চেয়ে কম, ২২,০০০ টাকা নিয়ে যান। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ ৯৯৯ নম্বরে জানানো হলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে সন্দেহভাজনরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মহিপুর থানা পুলিশ মাকসুদ আকনকে গ্রেপ্তার করে, যাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ মুহূর্তে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাকসুদ আকনের চাচাতো ভাই মামুন আকন জানান, মামলাটি মূলত দোকানের জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ফল। তিনি বলেন, মাকসুদ বিভিন্ন স্থানের থেকে কিস্তিতে টাকা এনে জমির চুক্তি সম্পন্ন করেছিল, তবে চুক্তি সত্ত্বেও মালিকানা না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন। মামুনের মতে, মাকসুদ কোনো চাঁদা দাবি করেনি, কেবল দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল; তবে পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবার জোর দিয়ে বলেছে, তাদের কোনো সদস্য কখনো অপরাধে থানায় যায়নি এবং তারা আইনি পথে সমাধান চায়।
মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খান জানান, প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদারও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের সমর্থক হলেও কোনো সংগঠনিক পদে নেই এবং মূল বিরোধটি দোকানের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংগঠনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, মামলাটি বর্তমানে পুলিশ তদন্তের অধীনে রয়েছে। সিসিটিভি রেকর্ড, দোকানের ক্যাশবুক এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলবে। আইনগত দিক থেকে, গ্রেপ্তারকৃত মাকসুদ আকনকে অপরাধমূলক দায়ের আওতায় আনা হবে এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে চুরি, ভাঙচুর এবং হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগ প্রয়োগ করা হবে। মামলার ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা চলাকালে, স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে, স্বেচ্ছাসেবক দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও রাজনৈতিক সংযোগের পর্যালোচনা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।



