অ্যামাজন প্রাইমে ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘দ্য ওয়্রেকিং ক্রু’ চলচ্চিত্রটি দ্রুতই প্ল্যাটফর্মের শীর্ষে উঠে আসে এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পায়। এই অ্যাকশন-কমেডি ছবির দায়িত্বে ছিলেন পুয়ের্তো রিকোর পরিচালক এঞ্জেল ম্যানুয়েল সোটো, যিনি পূর্বে ডি.সি. ইউনিভার্সের ‘ব্লু বিচেল’ পরিচালনা করে পরিচিতি অর্জন করেন। একই ডি.সি. জগতে কাজ করা অ্যান্ডি মুশিয়েত্তি, যিনি ‘ইট’ এবং ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ এর জন্য পরিচিত, তিনি এই ছবিটি দেখার পর সোটোর সঙ্গে সিক্যুয়েল সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ করেন।
সোটোর পূর্ববর্তী কাজ ‘ব্লু বিচেল’ ডি.সি. স্টুডিওর প্রথম প্রধান চলচ্চিত্রের মধ্যে গণ্য হয়, আর মুশিয়েত্তির ‘দ্য ফ্ল্যাশ’ এ জেসন মোমোয়া জনি হেলের ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন, যিনি ডেভ বাউটিস্টার অভিনীত জেমস হেলের অর্ধ-ভাই। দুজনই একই মহাবিশ্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়, যা তাদের আলোচনায় স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে। মুশিয়েত্তি ‘দ্য ওয়্রেকিং ক্রু’ দেখার পর সোটোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলেন, যেখানে উভয়ই স্প্যানিশে কথা বলেন এবং পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়।
আলোচনার সূচনা হয় মুশিয়েত্তির সোটোর কাজের প্রশংসা দিয়ে, যেখানে তিনি ছবির গুণমান ও বিনোদনমূলক দিককে উচ্চ প্রশংসা করেন। সোটো উত্তর দেন যে তিনি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন, যা তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুজনই স্বীকার করেন যে স্ক্রিপ্টে নির্ধারিত দৃশ্যের পাশাপাশি স্বতঃস্ফূর্ত হাস্যরসের সুযোগও তৈরি হয়, ফলে চরিত্রগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে।
সিক্যুয়েল নিয়ে আলোচনা করার সময় দুজনই চরিত্রের মানসিক গভীরতা ও দুর্বলতা তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মূল গল্পে দুই ভাইয়ের মধ্যে তিক্ততা ও পিতার মৃত্যুর রহস্য সমাধানের প্রচেষ্টা কেন্দ্রীয় থিম, এবং সোটো উল্লেখ করেন যে এই দ্বন্দ্বকে আরও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা সিক্যুয়েলের জন্য মূল চাবিকাঠি হতে পারে। এছাড়া, ছবির সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অ্যাকশন দৃশ্যের প্রস্তুতি ও শুটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে দুজনই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, যেখানে শারীরিক ঝুঁকি ও কোরিওগ্রাফি সমন্বয়কে বিশেষ উল্লেখ করা হয়।
সঙ্গীতের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথাও আলোচনায় উঠে আসে; মূল রেকর্ডিংয়ে ব্যবহৃত একটি নির্দিষ্ট সাউন্ড কিউ শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়। সোটো ব্যাখ্যা করেন যে এই সিদ্ধান্তটি গল্পের টোন ও গতি বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছিল। মুশিয়েত্তি এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানান এবং বলেন যে ছবির সামগ্রিক পরিবেশে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
দুই পরিচালক ভবিষ্যতে ‘দ্য ওয়্রেকিং ক্রু’ সিরিজকে কীভাবে বিস্তৃত করা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন ধারণা শেয়ার করেন। সম্ভাব্য সিক্যুয়েলে ভাইদের অতীতের আরও গভীর অনুসন্ধান, নতুন শত্রুদের পরিচয় এবং ডি.সি. ইউনিভার্সের অন্যান্য চরিত্রের সঙ্গে সংযোগের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়। যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে উভয়ই এই প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
‘দ্য ওয়্রেকিং ক্রু’ এর জনপ্রিয়তা এবং ডি.সি. ফ্র্যাঞ্চাইজের মধ্যে এর অবস্থান বিবেচনা করে, সিক্যুয়েল তৈরি হলে তা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আবার শীর্ষে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সোটো ও মুশিয়েত্তি উভয়েরই ডি.সি. জগতে কাজের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একত্রিত হয়ে ভবিষ্যৎ প্রকল্পে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। এই আলোচনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা আশা করতে পারেন যে ‘দ্য ওয়্রেকিং ক্রু’ এর গল্প আরও বিস্তৃত ও রোমাঞ্চকর রূপে পর্দায় ফিরে আসবে।



