১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক হিসেবে ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটুকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত করেছে। প্রজ্ঞাপনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি হয়ে সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হয়, যা নতুন দায়িত্বের শুরুর তারিখ ও দায়িত্বের পরিধি স্পষ্ট করে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব এবং ‘রক্তস্পন্দন’ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা তাকে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক কাজের সমন্বয়ে দক্ষ করে তুলেছে।
নিয়োগের পর থেকে ডা. বিটু প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সকল ব্যক্তিগত বিষয়ের তত্ত্বাবধান করবেন। তার দায়িত্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে এই পদে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই নিয়োগকে সরকারী স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও নেতৃত্বের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন। তবে বিরোধী দলগুলোও উল্লেখ করেছে যে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার। তারা ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়োগের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ডের ওপর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
এই পদে ডা. বিটুর যোগদানের ফলে সরকারী স্বাস্থ্য নীতি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা একত্রে সমন্বিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তার কার্ডিওলজি ক্ষেত্রে গবেষণা ও শিক্ষাগত পটভূমি সরকারকে হৃদরোগ সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে ‘রক্তস্পন্দন’ প্রকল্পের সমন্বয়ক হিসেবে তার অভিজ্ঞতা জনস্বাস্থ্যের বৃহৎ প্রকল্পে সমন্বয় দক্ষতা যোগাবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে ডা. বিটুর নিয়োগকে সরকারী দিক থেকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে দায়িত্বশীল হবেন। এই দায়িত্বের ফলে প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধারাবাহিকতা ও দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু এখন থেকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী চিকিৎসক হিসেবে কাজ করবেন। তার বিদ্যমান একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এই নতুন ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে এবং সরকারী স্বাস্থ্য নীতি ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।



