বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জ্রিনস্কি মোস্তার বিপক্ষে ক্রিস্টাল প্যালেসের ইউরোপীয় কনফারেন্স লিগের প্রথম লেগে ১-১ সমতা নিশ্চিত হয়েছে। ম্যাচটি নকআউট ফেজের প্লে‑অফের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় এবং দু’দলই অগ্রসর হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের লড়াইয়ে লিপ্ত হয়।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে ইস্মাইলা স্যার গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। জ্যান ড্যানিশ ফরোয়ার্ড জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের লে‑অফ পাসে স্যার নিকটবর্তী এলাকায় দৌড়ে গিয়ে বলটি নিচু করে জালের মধ্যে পাঠায়, যা রক্ষাকারীকে অপ্রস্তুত করে দেয়।
সেই মুহূর্তের আগে জ্রিনস্কি মোস্তার আক্রমণকারী অ্যান্টোনিও ইভানসিকের একটি পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট হয়; তিনি লাইন ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে শটটি মিস করেন। এই ত্রুটি স্যারের গোলের জন্য পথ সুগম করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে জ্রিনস্কি মোস্তার ক্যার্লো আব্রামোভিচ সমতা বজায় রাখে। তিনি ড্যানিয়েল মুয়োনোজের ক্রসের পিছনে অবস্থান করে বলটি গলে নেটের মধ্যে পাঠিয়ে স্কোর সমান করে। এই গোলটি দলকে মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করে।
ক্রিস্টাল প্যালেসের তরুণ মিডফিল্ডার অ্যাডাম হোয়াটনও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করে; তিনি শক্তিশালী শট দিয়ে ক্রসবারে আঘাত করেন, তবে বলটি কাঠামোর মধ্যে আটকে যায়। হোয়াটনের এই প্রচেষ্টা দলকে একবার আবার সুযোগের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
ম্যাচের পুরো সময়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের আক্রমণমূলক সুযোগ সীমিত থাকে। ওলিভার গ্লাসনারের অধীনে দলটি শীতকালীন রোস্টার থেকে নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করলেও, শটের সংখ্যা এবং গোলের সুযোগে তারা জ্রিনস্কি মোস্তার তুলনায় পিছিয়ে থাকে।
প্রি-সিজনের শেষ ম্যাচে উলভসের বিরুদ্ধে ৩-২ পরাজয়ও দলকে প্রভাবিত করেছে। সেই পরাজয়ে হোয়াটন ও স্যার উভয়ই অফসাইড ফ্ল্যাগের কারণে গোলের সুযোগ হারিয়েছিলেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাসে ক্ষতি করে।
প্রথমার্ধের প্রারম্ভিক সময়ে হোয়াটন এবং স্যার দুজনই বলটি জালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়, তবে রেফারির অফসাইড সংকেতের ফলে গোলের স্বীকৃতি না পায়। এই দুইটি নিকট সুযোগের পরেও দলটি ত্বরিতভাবে স্কোর বাড়াতে পারেনি।
গোলকিপার ডিন হেন্ডারসন প্রথম ১৫ মিনিটে একবারই পরীক্ষিত হন; জ্রিনস্কি মোস্তার ফ্রি-কিকের পরে তিনি পেনাল্টি এলাকায় বেরিয়ে বলটি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি ঢিলা পাসের কারণে বিপদের মুখে পড়েন, তবে চাদি রিয়াদের দ্রুত হস্তক্ষেপে তিনি নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে গোরান কারাচিক ড্যানিয়েল মুয়োনোজের ক্রস-শটকে বাধা দেন, তবে ক্রিস রিচার্ডসের থ্রো‑ইন থেকে ক্রিস্টাল প্যালেসের কোনো শটই লক্ষ্যভেদ করতে পারে না। উভয় দিকের রক্ষণাত্মক কাজের ফলে গেমের গতি ধীর হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে হোয়াটনের মিডফিল্ডে বল হারানোর ফলে জ্রিনস্কি মোস্তা দ্রুত প্রতিপক্ষের গোলের সুযোগ পায়। লেও মিকিকের পাসে আব্রামোভিচের শটটি নেটের পিছনে গিয়ে স্কোর সমান করে, যা ম্যাচের সমাপ্তি পর্যন্ত দলকে সমান রাখে।
দলটি এখন সেলহার্স্ট পার্কে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি ক্রিস্টাল প্যালেস এই ম্যাচে অতিরিক্ত সুবিধা অর্জন করতে পারে, তবে তারা নকআউট পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে জ্রিনস্কি মোস্তার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সমতা বজায় রাখার ক্ষমতা তাদের জন্য হুমকি স্বরূপ।



