সনি সম্প্রতি ব্লু-পয়েন্ট গেমস স্টুডিও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছে, যা ডেমনস সোলস এবং শ্যাডো অব দ্য কোলোসাস রিমেকের জন্য দায়ী ছিল। ব্যবসায়িক পর্যালোচনার পর স্টুডিওটি মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হবে এবং প্রায় ৭০ জন কর্মী চাকরি হারাবে।
ব্লু-পয়েন্ট গেমসের সর্বশেষ বড় প্রকল্প ছিল ২০২২ সালে প্রকাশিত গড অব ওয়ার: রাগনারক, যা সনি সান্তা মনিকার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছিল। রাগনারকের পর স্টুডিওটি গড অব ওয়ার মহাবিশ্বে একটি লাইভ-সার্ভিস গেমের উন্নয়ন কাজ পেয়েছিল, তবে তা ২০২৫ সালে বাতিল করা হয়।
সনি ২০২১ সালে ব্লু-পয়েন্ট গেমসকে অধিগ্রহণ করে, মূলত ক্লাসিক প্লেস্টেশন গেমের রিমেক ও রিমাস্টারিং দক্ষতা কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে। অধিগ্রহণের সময় স্টুডিওটি উচ্চ প্রশংসিত টেকনিক্যাল টিম হিসেবে পরিচিত ছিল এবং প্লেস্টেশন ব্যবহারকারীদের জন্য উচ্চমানের অভিজ্ঞতা সরবরাহ করত।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক পর্যালোচনার ফলস্বরূপ স্টুডিও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় সত্তর কর্মী চাকরি হারাবে, এবং স্টুডিওটি মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে।
সনি একটি বিবৃতিতে ব্লু-পয়েন্ট গেমসের টিমকে “অসাধারণ দক্ষতা ও সৃজনশীলতা” দিয়ে প্রশংসা করে এবং তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে টিমের অবদান প্লেস্টেশন সম্প্রদায়ের জন্য স্মরণীয় গেমিং অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
রাগনারকের পরে পরিকল্পিত গড অব ওয়ার লাইভ-সার্ভিস গেমটি ২০২৫ সালে বাতিলের পাশাপাশি বেন্ড স্টুডিওর আরেকটি প্রকল্পও একই সময়ে বন্ধ হয়। এই বাতিলগুলো সনি’র লাইভ-সার্ভিস গেমিং কৌশলের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য লাইভ-সার্ভিস প্রকল্পেও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মাল্টিপ্লেয়ার শ্যুটার কনকর্ডের সার্ভার গেম প্রকাশের দুই সপ্তাহ পরই বন্ধ করা হয় এবং ফায়ারওয়াক স্টুডিও, যা একই ধরণের গেম তৈরি করত, তাও বন্ধ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সনি’র প্রিমিয়াম অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমে প্রবেশ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় কৌশলগত ত্রুটি দেখা দিয়েছে। রিমেক ও রিমাস্টারিং দক্ষতা থেকে লাইভ-সার্ভিস মডেলে রূপান্তর করার সময় বাজারের চাহিদা ও আয় মডেল সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করা সম্ভবত প্রধান কারণ।
এই স্টুডিও বন্ধের ফলে সনি’র গেম পোর্টফোলিওতে রিমেক প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাবে, যা প্লেস্টেশন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ক্লাসিক গেমের প্রত্যাশা হ্রাস করতে পারে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান হ্রাসের ফলে গেম ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ কর্মীর সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।
তবুও সনি’র অন্যান্য স্টুডিও এখনও লাইভ-সার্ভিস উপাদান নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। গেরিলা গেমস সম্প্রতি হরাইজন ইউনিভার্সে অনলাইন কো-অপ গেমের ঘোষণা করেছে, আর বানজি মার্চে তার এক্সট্র্যাকশন শ্যুটার মারাথন প্রকাশ করতে চলেছে। এই উদ্যোগগুলো সনি’র ভবিষ্যৎ গেম কৌশলের দিক নির্দেশ করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ব্লু-পয়েন্ট গেমসের বন্ধ সনি’র লাইভ-সার্ভিস কৌশলের পুনর্মূল্যায়নের সংকেত দেয়। কোম্পানি যদি রিমেক ও রিমাস্টারিং দক্ষতাকে মূলধারায় রাখতে চায়, তবে বাজারের পরিবর্তনশীল চাহিদা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে নতুন মডেল গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, সনি’র ভবিষ্যৎ গেম প্রকাশের পরিকল্পনা এবং স্টুডিও পরিচালনা কৌশল যদি স্পষ্ট না হয়, তবে বিনিয়োগকারী ও গেমারদের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই সনি’র জন্য বর্তমান সময়ে কৌশলগত স্বচ্ছতা এবং টেকসই আয় মডেল গঠনই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



