নতুন সরকার গঠনের পর সরকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের সর্বস্তরে এবং বাংলাদেশ পুলিশের নেতৃত্বে নতুন মুখ দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসনের দুইটি শীর্ষ পদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব, পরিবর্তিত হয়েছে এবং নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সমিতি, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) মহাসচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিয়া উল্লেখ করেছেন যে, যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে বসানো তাদের সর্বদা অগ্রাধিকার। এই নীতি অনুসারে নতুন সরকার প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করছে।
পুলিশ শীর্ষে পরিবর্তনের বিষয়টি বর্তমানে গরম আলোচনার মধ্যে রয়েছে। বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফলে নতুন আইজিপি নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদেও নতুন নামের জন্য আলোচনা চলছে।
জেলার পুলিশ সুপারintendেন্ট (এসপি) গণ শীর্ষ পদে রদবদল পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শীর্ষ পদ পরিবর্তনের পরপরই রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপি পদে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আইজিপি পদে অন্তত অর্ধ ডজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি আইজিপি হওয়ার আগে র্যাবের মহাপরিচালক এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার পদে একটি মহানগরীর কমিশনারসহ প্রায় এক ডজন কর্মকর্তার নাম তালিকায় রয়েছে। এই পদে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে শহুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে পুলিশসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠন ও নৈতিকতা উন্নয়নের মাধ্যমে জনসাধারণের বিশ্বাস জোরদার করার পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই রদবদলগুলো সরকারী নীতি বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শীর্ষ পদে নতুন নাম আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ও পুলিশ কাঠামোর কার্যকারিতা কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই পরিবর্তনগুলো সরকারের জনপ্রিয়তা এবং জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রশাসন ও পুলিশে রদবদলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণের সময়সূচি এবং কর্মপরিকল্পনা শীঘ্রই প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও কার্যকর রাখতে সচেষ্ট বলে জানিয়েছে, যাতে জনসাধারণের আস্থা বজায় থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ফাঁক না থাকে।



