ওয়াশিংটন ডি.সিতে অনুষ্ঠিত তার নতুন “শান্তি বোর্ড”ের উদ্বোধনী সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী দশ দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করবে কিনা, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য এখনও কাজ বাকি এবং প্রয়োজনে বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে হতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে মার্কিন সরকার মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে, একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে আমেরিকান ও ইরানি আলোচকাদের মধ্যে অগ্রগতির খবরও প্রকাশ পেয়েছে। তবে কংগ্রেসের কিছু ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান সদস্য ইরানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বিরোধিতা করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের ইরানের সঙ্গে “খুবই ফলপ্রসূ” বৈঠকগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ কাজ নয়; না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেখা দিতে পারে।
একদিন আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ইরানের প্রতি সতর্কতা জানিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে তবে তা তার স্বার্থে হবে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম সমাধানে কূটনৈতিক পথ অনুসরণে আশাবাদী রয়েছেন।
প্রথমে “শান্তি বোর্ড”কে গাজা অঞ্চলে ইসরায়েল ও হামাসের দ্বন্দ্ব সমাধান এবং পুনর্নির্মাণ তদারকি করার জন্য গঠন করা হয়েছিল। তবে গত মাসে বোর্ডের কার্যক্রম একাধিক সংঘাতে বিস্তৃত হয়েছে, এবং দুই ডজনেরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে এটি জাতিসংঘের ভূমিকা হ্রাসের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্চ ২০২৩-এ মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক সুবিধা আক্রমণ করে, এবং এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউস নতুন আক্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর “USS Abraham Lincoln” ক্যারিয়ার জাহাজসহ অন্যান্য সামরিক ইউনিট অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে তার সামরিক ঘাঁটি ও সুবিধা শক্তিশালী করেছে, এবং দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহের নির্দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দশ দিনের সময়সীমা উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি চুক্তি না হয় তবে মার্কিন সরকার সম্ভবত সামরিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, ইরান যদি চুক্তি স্বীকার করে, তবে তা পারমাণবিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা কমাতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজনীয়তা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং “শান্তি বোর্ড”ের ভূমিকা কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



