অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, ঢাকা শহরের হেয়ার রোডে অবস্থিত সরকারি বাসা থেকে নতুন সরকার গঠনের পর প্রস্থান করবেন বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বাসা ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আসিফ নজরুল interim সরকারে আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ও পরে ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। হেয়ার রোডের সরকারি বাসা তার কাজের সময়কালে অফিসিয়াল বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাড়িটি তার বর্ণনা অনুযায়ী বিশাল এবং প্রশস্ত, যা প্রথমে তার এবং পরিবারের জন্য অস্বাভাবিক অনুভূতি তৈরি করেছিল। তিনি লিখেছেন, “যখন আমরা হেয়ার রোডের এই বাসায় উঠি, সবার মন খারাপ হয়ে যায়, এত বড় বাড়ি, এত বড় জায়গা, যা কল্পনাতীত।”
ফেসবুক পোস্টে তিনি বাসা ত্যাগের প্রস্তুতি নিয়ে তার মনের অবস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দু-একদিনের মধ্যে আমরা এই বাসা থেকে চলে যাব।” তাছাড়া তিনি বাসার প্রতি গড়ে ওঠা মায়া ও স্নেহের কথাও উল্লেখ করেছেন।
বাড়িতে বসবাসের সময় তার সন্তানদের মানসিক অবস্থা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল তারা,” যা দেখায় যে বাসার অবস্থান পরিবারিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে।
তবু, বাসার পরিবেশের প্রতি তার অনুভূতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশের জন্য এই বাসাটার প্রতি মায়া বাড়ছে।” এই বিবরণে তিনি বাসার প্রাকৃতিক দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন।
আসিফ নজরুলের পোস্টে শেষের দিকে তিনি বিদায়ের শব্দ ব্যবহার করে হেয়ার রোডের বাসা ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। “বিদায় হেয়ার রোড,” তিনি সংক্ষেপে লিখে শেষ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে, বাংলাদেশ সরকার নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বিন্যাস করে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, সরকারী বাসা ত্যাগের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক পরিবর্তনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তফসিল ঘোষণার পর, ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসিফ নজরুলকে ক্রীড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হয়। এই পদবিন্যাস তাকে সরকারী কাজের নতুন দায়িত্বে যুক্ত করে।
হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ত্যাগের মাধ্যমে, আসিফ নজরুল তার সরকারি দায়িত্ব থেকে এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছেন। এই পদক্ষেপটি সরকারী সম্পদের সুষ্ঠু হস্তান্তর এবং নতুন প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে, তার সরকারি বাসা ত্যাগের পরবর্তী ধাপগুলোতে তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে কীভাবে যুক্ত হবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন উপদেষ্টা পদে কাজের ইতিহাস তাকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রাসঙ্গিক রাখবে।



