21 C
Dhaka
Friday, February 20, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালেই নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রথম পরিচিতিমূলক বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা ও নীতি দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পররাষ্ট্র নীতি গঠন করা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কর্মকর্তাদের জানানো হয় যে, সকল পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে সার্বভৌম স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা মূল নীতি হিসেবে অনুসরণ করতে হবে।

খলিলুর রহমান ও শামা ওবায়েদ উভয়েই জোর দিয়ে বললেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের ভিত্তি হবে বাংলাদেশের স্বার্থের পূর্ণ রক্ষা। এতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মর্যাদা বজায় রাখা, পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত।

বৈঠকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের পররাষ্ট্রনীতির কিছু মূল দিকও আলোচিত হয়। বিশেষ করে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মী ও নাগরিকদের প্রতি সেবা প্রদান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনবান্ধব মনোভাব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানালেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণে কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বিদেশে মিশনগুলোতে বাংলাদেশিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক সেবা প্রদান করা যায়। এছাড়া, সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।

বৈঠকের পর শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অপরিহার্য এবং সকল কর্মকর্তার সমন্বয়ে এই কাজটি অগ্রসর করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান নীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ পরিবর্তন হতে পারে, তবে এর বিশদ ব্যাখ্যা নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীই দেবেন।

শেখ হাসিনার ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে শামা ওবায়েদ উত্তর দিলেন, আজ প্রথম দিন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি নজরে রাখবে। চলমান প্রক্রিয়াগুলোকে বাধা না দিয়ে যথাযথভাবে এগিয়ে নিতে হবে, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বললেন।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও স্বার্থকেন্দ্রিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। এর জন্য কূটনৈতিক মিশনগুলোকে দেশের স্বার্থে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে এবং আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে হবে।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্র নীতি গঠন করা হবে, এটাই বৈঠকের মূল নির্দেশনা। এতে দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানালেন, নতুন মন্ত্রীর নির্দেশে মিশনগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত সেবা প্রদান, সমস্যার সমাধান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হবে। এছাড়া, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি গৃহীত হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও সমন্বয় প্রক্রিয়া চালু থাকবে। নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের কর্মদক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই নির্দেশনা ও নীতি গৃহীত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে, এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments